খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২০ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৮ দিনেই বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে এসেছে ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। দৈনিক গড় হিসাবে এই প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলারে, যা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ইতিবাচক চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। গত বছর এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনে দেশে এসেছিল ১৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ২৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে উৎসাহ বৃদ্ধি, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা অব্যাহত থাকায় এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের আয় স্থিতিশীল থাকায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি অর্থবছরের (জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত) সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
| সময়কাল | রেমিট্যান্স (মার্কিন ডলার) | পরিবর্তন |
|---|---|---|
| এপ্রিল ১–১৮, ২০২৬ | ১৯৬.৮০ কোটি | — |
| এপ্রিল ১–১৮, ২০২৫ | ১৬৯.৪০ কোটি | +১৬.২% বৃদ্ধি |
| জুলাই–১৮ এপ্রিল (২০২৫–২৬) | ২,৮১৭.৭০ কোটি | +২০% বৃদ্ধি (বছর ভিত্তিক) |
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসীদের আয়ের বড় অংশ এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে আসায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি ফিরছে। বিশেষ করে ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে রেমিট্যান্স একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ শুধু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল বহু পরিবার দেশের ভোগ ও বিনিয়োগ খাতে সরাসরি অবদান রাখছে, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে সচল রাখছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে প্রবাসী শ্রমবাজার আরও সম্প্রসারণ করা এবং নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান জরুরি। একই সঙ্গে প্রবাসীদের জন্য ব্যাংকিং সুবিধা আরও সহজ ও দ্রুত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৫–২৬ অর্থবছর শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড ছুঁতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।