খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৭ এপ্রিল ২০২৫
গাজা ও রাফায় দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলায় শিশুসহ নিরস্ত্র হাজারো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এরই প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও বিক্ষোভ-মিছিল করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এ সময় দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু রেস্তোরাঁ ও দোকানপাটে ইসরায়েলের পণ্য রাখার অভিযোগে ভাঙচুর চালায় তারা।
যেসব জায়গায় হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:
কক্সবাজার: গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে কক্সবাজারে কেএফসি, পিৎজা হাট ও পানসিসহ মোট পাঁচটি রেস্তোরাঁয় ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার শহরের সুগন্ধা এলাকায় একদল তরুণ বিক্ষোভে অংশ নিয়ে উল্লিখিত রেস্তোরাঁগুলোতে ভাঙচুর করে।

সিলেট: সিলেটে এক রেস্তোঁরায় ইসরায়েলি কোমল পানীয় রাখার অভিযোগে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। সোমবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীরা জানান, নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের গণহত্যাকারী ইসরায়েলি কোনো প্রতিষ্ঠানের ঠাঁই হবে না এ দেশে। এই কেএফসি রেস্টুরেন্টে ইসরায়েলি বিভিন্ন কোমল পানীয় বিক্রি করা হচ্ছে। এটি মেনে নেওয়া যায় না।
_1744022271.jpg)
সিলেট: ফিলিস্তিনে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল সিলেট। বিক্ষুব্ধ জনতার মিছিল থেকে কেএফসি, ইউনিমার্ট, বাটা, ডমিনোজ পিজ্জাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শোরুমে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি পণ্য রাখা ও বিক্রির অভিযোগ তুলে এসব প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় বাটার শোরুমে লুটপাট হতে দেখা গেছে।
বগুড়া: বগুড়ায় ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের দাবি ও ফিলিস্তিনীদের উপর হামলার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তৌহিদী জনতা। মিছিল শেষে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের দাবি তুলে বেলা ১২টার দিকে শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় বাটার শো রুমে ভাঙচুর করা হয়।
_1744023079.png)
প্রসঙ্গত, গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে চলছে বিক্ষোভ। ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ শীর্ষক এই কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে পালন করা হচ্ছে সাধারণ ধর্মঘট। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই কর্মসূচি কোথা থেকে শুরু হলো, তা জানেন না অনেকেই।
গত ৫ এপ্রিল প্রথম এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় ‘ট্রান্সলেটিং ফালাস্তিন’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে। এই অ্যাকাউন্ট থেকে সাধারণত গাজায় চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কনটেন্ট পোস্ট করা হয়। গত শনিবার ওই অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়, যেটিতে ফিলিস্তিনের পতাকাসহ লেখা ‘দ্য ওয়ার্লড স্টপস ফর গাজা। নো ওয়ার্ক। নো স্কুল। আনটিল দ্য জেনোসাইড স্টপস।’
একই অ্যাকাউন্টে ৭ এপ্রিল সাধারণ ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে একটি পোস্ট করা হয় ইংরেজি ও আরবি ভাষায়। পৌনে চার লাখ ফলোয়ারের এই ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট থেকে দ্রুতই সেটি ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মঘটের ওই আহ্বানে সংহতি জানিয়ে পোস্টের কমেন্টে অনেকেই জানান, তারা নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখবেন এবং কর্মক্ষেত্রে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকবেন।
এই আহ্বান ছাড়া এই কর্মসূচির ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য অনলাইনে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে ‘দ্য ওয়ার্লড স্টপস ফর গাজা’ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। আজ সোমবার এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। একই কর্মসূচি পালন হচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
গাজার জন্য ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি অবশ্য একেবারেই নতুন নয়। প্যালেস্টাইন ক্রনিকলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ওই বছরই ১১ ডিসেম্বর এমন একটি ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। বিশ্বব্যাপী এই ধর্মঘটের মূলমন্ত্র ছিল ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল, নো শপিং।’ শুধু ক্লাস বা অফিস বর্জন নয়, সেদিন কোনোরকম কেনাকাটাও করতে নিরুৎসাহিত করা হয়।
খবরওয়ালা/টিএ