খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি বাতিল করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এএনইউ) সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ‘আইন’ বিষয়ে ওই ডিগ্রি দেওয়া হয়েছিল।
তবে হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ সামনে আসার পর তাকে দেওয়া সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রির বিষয়টি পর্যালোচনা করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সোমবার (২১ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সংবাদমাধ্যম ক্যানবেরা টাইমস।
এএনইউ’র বরাতে অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম দ্য ক্যানবেরা টাইমস জানিয়েছে, ডিগ্রি বাতিলের মতো ঘটনা তাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ঘটেনি। এমন কোনও নজিরও এখন পর্যন্ত তাদের নেই। তবে বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এই ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে কাজ করছে। পর্যালোচনা শেষে হাসিনার ডিগ্রি বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
ডিগ্রি বাতিলের খবরটি এমন সময় এসেছে যখন রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি ও মানুষ হত্যার অভিযোগে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, হাসিনার নির্দেশেই জনগণের ওপর গুলি চালায় পুলিশ।
এমন অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে শেখ হাসিনার ডিগ্রি বাতিলের বিষয়টি ভাবছে অস্ট্রেলিয়ার ওই বিশ্ববিদ্যালয়। অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে এএনইউ’র একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাউকে ডিগ্রি দেওয়ার পর তা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনা আগে ঘটেনি। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে পর্যালোচনা শেষে যদি ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা হবে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য নজিরবিহীন ঘটনা।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং এখনো সেখানেই অবস্থান করছেন। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছে আবেদনও জানিয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআর