খবরওয়ালা মফস্বল ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশ বিধ্বংসী অবৈধ হোটেল নির্মাণের অভিযোগে কক্সবাজারের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি ও আরও ১৮ হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া চার্জশিট আমলে নিয়ে এই পরোয়ানা জারি করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশেক ইলাহী শাহজাহান নুরী।
তিনি জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন গত ১৩ মার্চ আদালতে দাখিল করা হয়। এরপর ২৪ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
চার্জশিটে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন—আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ও সানরাইজ রিসোর্টের মালিক আব্দুর রহমান বদি, বাংলা রিসোর্টের মো. ইসহাক, ফ্যান্টাসি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের আবু জাফর প্রিন্স, সি প্রবাল বিচ রিসোর্টের আব্দুর রহমান, তার ভাই আব্দুল মালেক ও আব্দুর রহিম, লাবিবা আটলান্টিক রিসোর্টের নজরুল ইসলাম চৌধুরী, ইনচার্জ আমজাদ হোসেন, ব্যবস্থাপক সুলাইমান চৌধুরী, সানরাইজ রিসোর্টের আরেক ব্যবস্থাপক মো. ইসহাক, রয়েল বিচ রিসোর্টের জাহিদ হোসেন, রূপসী বাংলা রিসোর্টের আবুবকর ছিদ্দিক ও নিজাম উদ্দিন সুমন, নিঝুমবাড়ি রিসোর্টের হেলাল উদ্দিন ও সরোয়ার উদ্দিন ভুট্টো, ব্লু রেইন রিসোর্টের ফেরদৌস আহমেদ তুষার, মোস্তাক আহম্মদ, আবু সাদাত লাভলু এবং ড্রিমারস প্যারাডাইস রিসোর্টের অধ্যাপক আব্দুর রশিদ।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে প্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংস করে অবৈধভাবে হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণ ও পরিচালনা করা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবেশের চরম ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল টেকনাফ থানায় দায়ের করা মামলায় শুরুতে ১০ হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। তদন্ত শেষে আরও ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামিরা সেন্টমার্টিনের উপকূলীয় এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে নিচু জমি ভরাট করেছেন এবং সরকারি জমি দখল করে হোটেল নির্মাণ করেছেন। এ ছাড়া তারা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করেছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই পর্যটনের স্বার্থে মামলার বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে দেখছে প্রশাসন। পরোয়ানা জারি হওয়ায় আসামিদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে বলে জানা গেছে।
খবরওয়ালা/আরডি