ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কাশিয়াবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঝড়ে গাছ পড়ে পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে খোলা আকাশের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম। সামনেই প্রথম সাময়িক পরীক্ষা। কিন্তু দ্রুত সংস্কার না হলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে পরীক্ষা কার্যক্রম।
রবিবার (১৮ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গত শনিবার (১৭ মে) রাতের প্রবল ঝড়ে কলেজের পুরোনো টিনশেড ভবনের ওপর থাকা একটি বিশাল ইউক্যালিপটাস গাছ ভেঙে পড়ে। এতে কলেজের পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে যায়। এসব কক্ষে পাঠদানের আর কোনো পরিবেশ নেই। ফলে ভবনের সামনের আঙিনায় সারি সারি বেঞ্চে বসিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
একসঙ্গে একাধিক শ্রেণির পাঠদান হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকদেরকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্লাস নিতে।
একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিখা আক্তার বলেন, ‘ঝড়ে গাছ পড়ে আমাদের ক্লাসরুমগুলো ভেঙে গেছে। খোলা আকাশের নিচে বসে ক্লাস করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। পড়ালেখার পরিবেশ নেই, মনোযোগও ধরে রাখা যায় না।’
আরেক শিক্ষার্থী নবিউল ইসলাম বলেন, ‘এখন বর্ষার সময়। বাইরে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। হঠাৎ বৃষ্টি এলেই বই-খাতা ভিজে যায়। একসঙ্গে কয়েকটি ক্লাস হওয়ায় হইচই লেগে থাকে। ঠিকমতো কিছুই শোনা যায় না। আমরা চাই, দ্রুত রুমগুলো মেরামত করা হোক।’
কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক নুর আলম প্রামানিক বলেন, ‘খোলা আকাশের নিচে পাঠদান কোনোভাবেই কার্যকর হয় না। শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে। দ্রুত কক্ষগুলো মেরামতের মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।’
কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুব হাসান জানান, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত কাশিয়াবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজে বর্তমানে ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। শনিবার রাতে ঝড়ের সময় একটি ইউক্যালিপটাস গাছ পড়ে কলেজের পাঁচটি টিনশেড কক্ষ ভেঙে দেয়। এখন কলেজের আঙিনায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সামনে সাময়িক পরীক্ষা রয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে পরীক্ষা নেওয়াই কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও শিক্ষার এই দুরবস্থায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, কলেজের শ্রেণিকক্ষগুলো দ্রুত সংস্কার না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
খবরওয়ালা/আরডি