খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ মে ২০২৫
দেশের শেয়ারবাজার পুরোপুরি অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, “মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সঙ্গে এই বাজারের কোনো সংযোগ নেই। আওয়ামী লীগ সরকার এই বাজারকে ক্যাসিনোর মতো চালিয়েছে।”
শনিবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক আলোচনায় পুঁজিবাজার: দর্শন ও অনুশীলন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “২০১০-১১ সালে দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা পুঁজিবাজার থেকে অন্তত ১৫ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন। শাস্তির অনুপস্থিতি দুর্নীতিকে আরও গভীর করেছে।”
আমির খসরু বলেন, “দেশের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি একটাই — বিনিয়োগ। সরকারি ও বেসরকারি উভয় বিনিয়োগের অর্থের উৎস হওয়া উচিত ক্যাপিটাল মার্কেট। অথচ আমরা এখন মাত্র চার বিলিয়ন ডলারের জন্য আইএমএফের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। এটি আমাদের জন্য লজ্জার।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের ক্যাপিটাল মার্কেটে প্রতিবছর ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়। ভিয়েতনাম একাই ৩০০ বিলিয়ন ডলার আকর্ষণ করেছে। অথচ বাংলাদেশ মাত্র কয়েক বিলিয়নের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে। আমাদের বিনিয়োগ পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন না হলে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব নয়।”
বিএনপি নেতা জানান, বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বাজারে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তবে তারা একটি “ফ্রি ও ফেয়ার নির্বাচন”-এর জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ ১০ বিলিয়ন, কেউ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রস্তুত রেখেছেন। তারা অবকাঠামো, উৎপাদন এবং সেবা খাতে আসতে চান।
সিপিডির দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “পুঁজিবাজার একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্ল্যাটফর্ম। এখানে দিন এনে দিন খাও মানসিকতা চলে না। টোটকা দিয়ে এই বাজার ঠিক করা যাবে না। পূর্ববর্তী ধাক্কা পুরো অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “২০১০-১১ সালের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ সময় কোনো আইপিও বাজারে আসেনি, এটি বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার প্রতিফলন।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএসইসি কমিশনার মো. মোহসিন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) সায়মা হক, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজ, আইসিএমএবি সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতে ইসলামী নেতা মো. মোবারক হোসাইন, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনুভা জাবীন, ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম এবং ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম।