নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ মে ২০২৫
জুলাই আন্দোলনের সময় সরব সমর্থনের জন্য পরিচিত অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকে সম্প্রতি ‘ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্ট’ বলে অপবাদ দিয়েছেন একাংশ। এ ধরনের অভিযোগে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে ফেসবুকে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এই জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত অভিনেত্রী।
আজ সোমবার (২৬ মে) নিজের ফেসবুক পোস্টে বাঁধন লিখেছেন, “আমি বাংলাদেশের এজেন্ট, যে সত্যিই তার দেশকে ভালোবাসে!” তিনি জানান, তার দেশপ্রেম হঠাৎ করে আসেনি, বরং সময়ের সাথে তা গড়ে উঠেছে এবং সেই যাত্রায় সবচেয়ে বড় প্রভাব রেখেছেন তার বাবা।
বাঁধন জানান, তার বাবার জীবন সংগ্রাম এবং দেশের প্রতি তার অটল দায়বদ্ধতাই তাকে দেশপ্রেম শিখিয়েছে। পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বাবা খুব দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছিলেন। বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে বুয়েটে ভর্তি হন, যা তার মতো পরিবারের সন্তানের জন্য ছিল প্রায় অসম্ভব। পরবর্তীতে স্নাতকোত্তরের জন্য নেদারল্যান্ডসে গিয়েছিলেন। বিদেশে থাকার সুযোগ ও মোটা বেতনের চাকরি পেয়েও তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন।”
তার বাবার সেই সিদ্ধান্তে কষ্ট পেয়েছিলেন বাঁধনের মা। তবে বাবার মূল্যবোধই বাঁধনকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। বাঁধনের ভাষায়, “বাবা বলতেন, ‘আমি এই দেশের টাকায় পড়াশোনা করেছি, এখন সময় এসেছে প্রতিদান দেওয়ার। এমনকি যদি আমাকে শুধু ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে হয়, তবুও আমি এই দেশেই থাকব।’” এই আদর্শই তাকে গড়ে তুলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, আন্দোলনের পুরো সময় তিনি একনিষ্ঠভাবে পাশে ছিলেন, তবুও এখন ‘উচিত কথা বলায়’ তাকে ‘র’ এর এজেন্ট বানিয়ে দেয়া হয়েছে। এতে তিনি হতাশ এবং ক্ষুব্ধ।
পোস্টের একাংশে তিনি লেখেন, “দেশপ্রেম এমন কিছু নয় যা মানুষ নিয়ে জন্মায়। এটা সময়ের সাথে তৈরি হয়। এবং সময়ের সাথে সাথে দেশের প্রতি আমার ভালোবাসাও বেড়েছে।” তিনি জানান, তার বাবা ছাড়াও আরও অনেক মানুষ তাকে দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত করেছেন।
সবশেষে বাঁধন বলেন, দেশের প্রতি তার দায়বদ্ধতা কোনও বাহ্যিক স্বীকৃতি বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়, বরং ব্যক্তিগত চেতনা এবং আদর্শ থেকে উৎসারিত। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, দেশকে ভালোবাসা তাঁর জন্য পেশা নয়—এটা তার পরিচয়।
নানা ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন। তাঁর অনেক মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আলোচনা-সমালোচনা। এবার এই অভিনয়শিল্পী জানালেন, গতকাল শনিবার থেকে একটা পক্ষ তাঁকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এজেন্ট বলে আখ্যা দিয়েছে। তাই বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। সেখান থেকে তিনি ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছেন। পরে প্রথম আলোর সঙ্গেও কথা বলেন বাঁধন।
সম্প্রতি বাঁধন জানিয়ে ছিলেন, দ্রুততম সময়ে জাতীয় নির্বাচন চেয়ে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্ট ঘিরে আবার একটা পক্ষ তাঁকে ‘র’–এর এজেন্ট বলে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। ফেসবুকে পোস্ট করা বাঁধনের সেই পোস্ট এ রকম ছিল, ‘দেশের একজন নাগরিক হিসেবে আমি চাই, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন যেন দ্রুত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। আমি সেই দলকে ভোট দিব, যারা উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সমঅধিকার নিশ্চিত করবে। এখন সময় এসেছে আরও ন্যায়সঙ্গত, সাম্যবাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি সমাজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার—যেখানে ন্যায্যতা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং দেশটি সব নাগরিকের জন্য সেরা একটি দেশ হয়ে উঠবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড