ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ মে ২০২৫
গাইবান্ধা জেলায় সোমবার (২৬ মে) দুপুর ও বিকেলে পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন। দুর্ঘটনাগুলো ঘটে সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন একজন কিশোর, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ এবং এক রিকশাচালক।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে সাদুল্লাপুর উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নের বুজরুক মোজাহিদপুর গ্রামে। বিকেলে নিজের বসতঘরের টিনের চালায় উঠে আম পারছিলেন বেনজুর রহমান (৫০)। এ সময় ঘরের উপরের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নওশা মিয়া।
দ্বিতীয় ঘটনায়, একই দিন দুপুর ১২টার দিকে শৈশবের দুরন্তপনায় বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে নদীতে লাফিয়ে খেলছিল হাবিব মিয়া (১২)। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের নলেয়া নদীর একটি ব্রিজ থেকে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার সময় সে ডুবে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরিদল অভিযান চালিয়ে কিছুক্ষণ পর নদী থেকেই হাবিবের মরদেহ উদ্ধার করে। এই বেদনাদায়ক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ইদিলপুর ইউপি সদস্য রুহুল আমিন।
দিনের তৃতীয় দুর্ঘটনা ঘটে বিকেলেই গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোয়ালিয়া এলাকায়। যাত্রী নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ শহরের দিকে যাচ্ছিলেন রিকশাচালক মিলন ব্যাপারি (৩০)। পথে পেকস চক্ষু হাসপাতালের সামনে রংপুর থেকে শেরপুরগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস নামের একটি বাস পেছন থেকে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাটি উল্টে যায় এবং চালকসহ যাত্রীরা সড়কে ছিটকে পড়েন। মুহূর্তের মধ্যেই পেছন থেকে আসা রাজশাহীগামী পথের সাথী বাসটি মিলনকে চাপা দিয়ে চলে যায়, ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহত যাত্রী দুজন—গোলাপবাগ মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার শামছুল হক ও আশরাফুল ইসলাম—কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুটি বাস আটক করা হয়েছে, তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছে। নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই তিনটি ঘটনা গাইবান্ধা জেলার নাগরিকদের মাঝে গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বজনদের পক্ষ থেকে নিহতদের প্রতি শোক জানানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড