খবরওয়ালা বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ৩১ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ছোটপর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন ‘অভিনয় শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে ‘অ্যাক্টর’স ফ্যামিলি ডে ও অভিষেক-২০২৫’ পরিণত হলো শিল্পীদের মিলনমেলায়।
শনিবার (৩১ মে) রাজধানীর পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স মিলনায়তনে এই আয়োজনে যোগ দেন দেশের নবীন ও প্রবীণ শিল্পী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা।
আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠেন অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব আবুল হায়াত। নিজের বক্তব্যে তিনি যেমন সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছেন, তেমনই বর্তমান সময়ের সামাজিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে শিল্পীদের অসহায়তার কথাও অকপটে তুলে ধরেন।

আবুল হায়াত বলেন, ‘নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে হবে, শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে। নবীনরা শিখবে, প্রবীণরা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করবেন, এই পারস্পরিক সম্পর্কই আমাদের এক করে রাখতে পারে। ছোট–বড় নয়, আমরা সবাই এক পরিবারের, এক মঞ্চের শিল্পী। ছোট–বড় অভিনেতা বলতে কিছু থাকবে না। এই অনুভূতি যদি সবার মধ্যে আনতে পারি, তাহলে এর চেয়ে ভালো আর কিছু হতে পারে না এবং সেটা করার জন্য আমাদের ঘন ঘন যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে হবে। সমস্যা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
আইনি সুরক্ষা প্রশ্নে কড়া অবস্থান প্রবীণ এই অভিনেতার। সম্প্রতি বিভিন্ন শিল্পীর বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রসঙ্গে আবুল হায়াত বলেন, ‘লিগ্যাল প্রবলেম ইদানীং খুব প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে আমরা দেখছি। আইনি বিষয়ে আমাদের আরও শক্ত হতে হবে। কথা নেই বার্তা নেই, শিল্পীদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়, এক হাজার জনের মধ্যে সে নাকি আসামি, মানুষ খুন করেছে। তাকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে জেলখানায় ধরে রিমান্ডে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা খুবই অন্যায়। অপরাধ প্রমাণিত হলে বিচার হোক, কিন্তু এই অপমানজনক প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। এ জিনিসগুলো নিয়েও আমাদের লিগ্যাল কমিটির কাজ করতে হবে, অনেক করণীয় আছে। কারণ, পাবলিকের কাছে আমাদের জাবাবদিহি করতে হয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সংগঠনের আইনি পরামর্শ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। ‘একটা সংবাদমাধ্যম থেকে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘আপনি কী ফিল করছেন, অমুক শিল্পীকে ধরে নিয়ে গেছে?’ আমি বলেছি, ফিলিংয়ের কিছু নেই। অপরাধ থাকলে তদন্ত হবে, না থাকলে এটা অন্যায়, ন্যক্কারজনক।’
অভিনয় শিল্পী সংঘ কেন প্রয়োজন ছিল, সে ইতিহাস তুলে ধরে আবুল হায়াত বলেন, ‘আমাদের একটা প্ল্যাটফর্ম দরকার ছিল। একসময় যখন প্রযোজক থেকে টেলিভিশন—আমাদের পেটে লাথি মেরেছিল, কাজ করিয়ে আমাদের তাঁরা টাকা দিতেন না। ১০০ পর্ব শেষ হওয়ার পরও মেকাপ টাকা পায় না, শিল্পী পায় না, তখন আমাদের সংগঠন করতে হয়েছে।’

তবে সংগঠন করার আরও উদ্দেশ্য ছিল মনে করিয়ে দিয়ে এ অভিনেতা বলেন, ‘শুধু সেটাই তো আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না, অভিনয়সংশ্লিষ্ট যত রকমের সমস্যা আছে, উৎকর্ষ সাধনের জন্য যত রকমের ক্রিয়াকর্ম আছে, তা করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্ল্যাটফর্মের জন্ম।’
নতুন অভিনয়শিল্পীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যাঁরা নতুন আছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলছি, আপনাদের ভেতর জানার আগ্রহ দরকার। যদি মনে করেন, সব জেনে এসেছেন এখানে, তাহলে সেটা ভুল ধারণা। সিনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজন আছে। সিনিয়ররা যখন মেকাপরুমে থাকেন, তখন তাঁদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার করা উচিত, কোন ধরনের কথাবার্তা বলা উচিত। সারাক্ষণ আড্ডা দিতে পারেন, আড্ডা দেন, তা থেকেও শিখতে পারেন।’
নিজের উদাহরণ দিয়ে আবুল হায়াত জানান, আমি এই বয়সে এসেও আমার গুরুরা, সৈয়দ হাসান ইমাম, গোলাম মোস্তফা, সিরাজুল ইসলাম, মাসুদ আলী খান, আবুল খায়েরকে স্মরণ করি। কারণ তাঁদের সান্নিধ্য থেকে আমি শিখেছি। এখন কাউকে কিছু বলতে গেলে ভয় হয়, অপমানিত হতে পারি।
এই আয়োজন যেন শুধু ফ্যামিলি ডেতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং হয়ে উঠেছিল শিল্পী-সম্পর্ক, সম্মান এবং সংগঠনের প্রয়োজনিয়তা নিয়ে গভীর আত্মানুসন্ধানের এক মুহূর্ত।
খবরওয়ালা/এসআর