খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ১২ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
চলতি বছরের মে মাসে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে সংঘটিত ৬৫২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬৫৮ জন, আহত হয়েছেন এক হাজার ২১০ জন—এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যমভিত্তিক পর্যালোচনায়।
বৃহস্পতিবার (১২ জুন) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ৫৯৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৪ জন নিহত এবং ১,১৯৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪৮টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ১৪ জন আহত হন। নৌপথে ঘটে সাতটি দুর্ঘটনা, যাতে ৯ জনের মৃত্যু ও ১০ জন নিখোঁজ হন বলে জানানো হয়।
সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ২৩৩টি ঘটনায় জড়িত ছিল মোটরসাইকেল, যার ফলে ২৫৬ জন নিহত ও ২০১ জন আহত হয়েছেন। এতে সড়ক দুর্ঘটনার ৩৯.০২ শতাংশ, মোট নিহতের ৪১.৬৯ শতাংশ এবং মোট আহতের ১৬.৮০ শতাংশই মোটরসাইকেল সংক্রান্ত।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে নিহত হন ১৪৮ জন এবং আহত হন ২৭১ জন। বিপরীতে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে—৩০টি ঘটনায় নিহত ৩০ জন, আহত ৪৪ জন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন সেনা সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস কর্মী, ২ জন চিকিৎসক, ১ জন মুক্তিযোদ্ধা, ১৪২ জন চালক, ৯৫ জন পথচারী, ৫৯ জন নারী, ৫৪ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, ৩৪ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫ জন শিক্ষক এবং ৭ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৯৪৫টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৯.৪১ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২.৫৩ শতাংশ ট্রাক-পিকাপভ্যান-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১২.৪৮ শতাংশ বাস, ১৪.১৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৬.৬৬ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯.৩১ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৫.৩৯ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।
সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৯.০৭ শতাংশ গাড়িচাপা দেওয়ার ঘটনা, ২৪.৯৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২০.১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫.০২ শতাংশ বিবিধ কারণে, চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে ০.৩৩ শতাংশ ও ০.৫০ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।
দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৩৩.৫০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩২.৮৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮.১৪ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৫১ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ১.৫০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫০ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, তারা জাতীয়, আঞ্চলিক এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ বিশ্লেষণ করে এই তথ্যসংগ্রহ করেছে। এতে সরকারি বা বেসরকারিভাবে সরাসরি মাঠপর্যায়ে তথ্য যাচাই করা হয়নি। ফলে প্রকৃত সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা যায়।
সংগঠনটি দুর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
খবরওয়ালা/আরডি