খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকায়, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এক বছরে বেড়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৬ কোটি টাকা, অর্থাৎ ১৫০ দশমিক ৯২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন—এই তিন মাসেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৯৪ কোটি টাকা, যা প্রবৃদ্ধির হারে ২৬ দশমিক ১৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ঋণ আদায়ে কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. এম কে মুজেরী বলেন, ‘পুঞ্জীভূত ঋণ এতদিন যেভাবে কম দেখানো হচ্ছিল, এবার তার পুরো চিত্রটা সামনে এসেছে। এতে বোঝা যাবে কোন অংশটা নতুন করে খেলাপি হয়েছে, আর পুরনো ঋণ কতটা জমেছে। তখনই আমরা বুঝতে পারব, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অগ্রগতি আসলে কতটুকু।’
অন্যদিকে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, গত এক দশকে সরকারি শাসনামলে যেসব ঋণের অর্থ ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছে, এখন সেগুলোকেই খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ খেলাপির সংজ্ঞা ও নিয়মে পরিবর্তনের কারণেও এই ঋণ বেড়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘এই ঋণ বাড়ার বিষয়টি আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতা নয়। এতদিন আমরা একে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার চেষ্টা করেছি। এবার বাস্তব চিত্রটা প্রকাশ করা হয়েছে। এটি দেখানোর সৎ সাহস বাংলাদেশ ব্যাংক দেখাতে পেরেছে—এটাই গত এক বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন।’
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। ১৫ বছরে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দেশের ব্যাংকিং খাত ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়বে।
খবরওয়ালা/এন