খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলেছেন লিওনেল মেসি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই তারকা মঙ্গলবার (২৪ জুন) পা রাখলেন ৩৮ বছরে। জন্মদিনে জয় দিয়ে দিনটি স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন হয়তো। যদিও জয় না পেলেও দিনটি শেষ হয়েছে সাফল্য দিয়েই—ক্লাব বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মেসির দল ইন্টার মায়ামি।
মেসির গল্প শুরু হয়েছিল রোজারিওর পাড়াগাঁ থেকে। একটা শারীরিক সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন জাদুর কারিগর। সেই মেসিই আজ বিশ্বকাপজয়ী, কোপা জয়ী, সাতবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী, এমনকি মায়ামিতে বসে ফুটবলের কবিতা লিখছেন অলস আনন্দে।
তাঁর ক্যারিয়ার যেন নিছক কোনো পরিসংখ্যান নয়, বরং এক গভীর সৌন্দর্যের সাধনা। আমরা তাঁর খেলায় খুঁজে পাই আমাদের ক্লান্ত জীবনের স্বপ্ন, আনন্দ আর মুহূর্তিক উত্তাপ। তাঁর কোনো চাওয়া হয়তো বাকি নেই, কিন্তু আমাদের আছে—তাঁকে আরেকটু দেখতে চাওয়ার, ভালোবাসার, গর্ব করার।

মেসি এখন সেই স্তব্ধ জাহাজের মতো, যে পারানা নদীর ধারে বসে থাকা ছেলেটির চোখে ভেসে আসত—ধীর, শান্ত, গৌরবোজ্জ্বল। তিনি নিজেই বলেছেন, ফুটবলের কাছে তাঁর আর কিছু চাওয়ার নেই। এখন শুধু উপভোগ। এখন শুধু বয়ে চলা।
মেসি চাইলে ২০২২-এই শেষ বলতে পারতেন। বিশ্বকাপ হাতে সেই বিদায় হতো এক পূর্ণ মহাকাব্যের সমাপ্তি। কিন্তু তিনি রয়ে গেছেন। বাকি রেখেছেন আরেকটি অধ্যায়—২০২৬ বিশ্বকাপ। সম্ভবত সেটাই হবে মেসির শেষ জন্মদিন ফুটবলার হিসেবে।
৩৯তম জন্মদিনে হয়তো তিনি হবেন শেষবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে, হয়তো হাতে থাকবে আরেকটি সোনালি ট্রফি।
আর্জেন্টাইন সাহিত্যিক হারনান কাসসিয়ারির সেই স্যুটকেসের গল্পটা আজও কাঁদায় মেসিকে। আলমারিতে না তুলে রাখা সেই স্যুটকেস মেসির ভেতরে বসে থাকা প্রবাসী গাউচো ছেলেটার প্রতীক, যে কখনো শিকড় ভুলে যায়নি। অথচ একসময় সেই মেসিকেই দেশদ্রোহী বলেছিল তার দেশের মানুষ।

কিন্তু তিনি ফিরেছিলেন, ঝুঁপড়ি পেরিয়ে, ট্রফিহীন রাত পেরিয়ে, নিজের হারিয়ে ফেলা গর্ব ফিরে পেতে। এবং জিতেছিলেন—নিজেকে, দলকে, একটা জাতিকে।
একদিন হয়তো মাঠে আর থাকবেন না তিনি। কিন্তু আমাদের ভেতরে তিনি রয়ে যাবেন। ফুটবলে যখন স্থবিরতা নামে, আমরা তাঁর সেই বাঁ পায়ের টোকায় আবার আলো খুঁজে নেবো। মেসি অবসর নিলেও ভালোবাসা অবসর নেয় না।
খবরওয়ালা/এমএজেড