খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে উন্নতমানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) চিপ রপ্তানিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে, যা চীনে গোপনে এসব চিপ পাচারের আশঙ্কা মোকাবেলায় নেওয়া হচ্ছে । মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের খসড়া নিয়মে বলা হয়েছে—চীন যাতে মালয়েশিয়া বা থাইল্যান্ডের মাধ্যমে উন্নত এনভিডিয়া বা অন্যান্য এআই চিপ অনৈতিকভাবে রপ্তানি করতে না পারে, সেজন্য নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হবে। এই খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্যোগটি বাড়তি—এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন শাসনকালে চালু হওয়া ‘এআই ডিফিউশন রুল’ বাতিল করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে সরাসরি চীনকে চিপ রপ্তানি বন্ধের ২০২২ ও ২০২৩ সালের বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
নতুন এই পরিকল্পনায় ‘ডিফিউশন রুল’ এর তুলনায় একটি সরলীকৃত জাগতিক লাইসেন্স কাঠামো আনা হবে, যেখানে নির্দিষ্ট দেশ নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি দেশের ওপর ভিন্ন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে। এমনকি, স্থানীয় ডেটা সেন্টারে এআই চিপ ব্যবহারে নিরাপত্তা কিংবা ক্লাউড অপারেটরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন পর্যালোচিত হবে।
এখন পর্যন্ত এনভিডিয়া এসব চিপ পাচার প্রমাণ হয়নি বলে জানিয়েছে। তবে প্রযুক্তি ও ট্রেড কোম্পানিগুলো—যেমন এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, এবং ওরাকল—‘ডিফিউশন রুল’ এর উদ্দেশ্য ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল, সেগুলো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যে।
মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড এখনও এ খসড়া নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি । মালয়েশিয়ার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে—প্রযুক্তি খাতে “স্বচ্ছ ও ধারাবাহিক নীতি” দরকার।
এই দুই দেশের ডেটা সেন্টার ও প্যাকেজিং অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগ হয়েছে এবং তারা এখন এআই চিপ রপ্তানি ও ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ হাব হয়ে উঠছে।
নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্রভুক্ত দেশগুলোর কোম্পানিগুলো মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষ লাইসেন্স ছাড়াই চিপ রপ্তানি চালিয়ে যেতে পারবে। প্যাকেজিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপের জন্যও ছাড় থাকবে কারণ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপর নির্ভরতা বেশি।
সূত্র: ব্লুমবার্গ
খবরওয়ালা/আরডি