খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ‘বেহেশত ও দোজখের মাঝামাঝি’ অবস্থানে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। রোববার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি বলেন, দেশের শাসনব্যবস্থা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘একটি সরকারের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা, সুনাম বা দুর্নামের যে একটি প্রবাহ থাকে— এ সরকার তা হারিয়েছে। সবকিছুতেই এবড়োখেবড়ো ভাব। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক এক ধরনের ভয়ংকর অনিশ্চয়তার ভেতরে বাস করে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার এখন এমন অবস্থায় রয়েছে।’
সরকারের জনপ্রিয়তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা সরকারের প্রশংসা করেন তারা ভাড়াটে, আর বিরোধিতা করেন যারা, তারাও নিজের স্বার্থে পরিচালিত। এই দুই বিপরীত অবস্থানই প্রমাণ করে সরকার কঠিন ক্রান্তিকালে আছে।’
বিশ্লেষণে তিনি আরও বলেন, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতিই সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। তাঁর ভাষায়, ‘সীমান্ত বন্ধের পথে, ব্যবসা-বাণিজ্য তলানিতে, আমদানিতেও জটিলতা। ভারত প্রতিবছর ৪০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশে। আমরা যদি এসব পণ্য অন্য দেশ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে কিনতে বাধ্য হই, তাহলে দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়বে। এভাবে এক বছরও টিকে থাকা সম্ভব হবে না।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে তিনি ‘ফরজে কেফায়া’ বলেও উল্লেখ করেন। রনির মতে, ‘চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো করায় ভারত ক্ষুব্ধ হয়েছে। এ অবস্থায় ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েছে সরকার।’
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কোয়াড ও ইন্দো-প্যাসিফিকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ চায়। আমেরিকা চাইছে বাংলাদেশ তার স্বার্থ রক্ষা করুক, আর ভারত যেন বাংলাদেশকে সেই সুযোগ দেয়। এতে বাংলাদেশ চীনের বলয় থেকে সরে আসবে বলে আমেরিকার প্রত্যাশা। এ কারণে ড. ইউনূসের ক্ষমতায় আসা থেকে শুরু করে তা পরিচালনায় আমেরিকার বড় ভূমিকা রয়েছে।’
ভারতের অবস্থানেও পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন রনি। তিনি বলেন, ‘ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাংলাদেশের বিষয়ে অভূতপূর্বভাবে নমনীয় মন্তব্য করেছেন। তারা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বার্তা দিয়েছে। ড. ইউনূস যদি এই বার্তা গ্রহণ করেন, তাহলে রাশিয়া-চীন বলয় সরকারবিরোধী হয়ে যাবে। এই জটিল দ্বিমুখী চাপকেই আমি বলেছি— “বেহেশত ও দোজখের মাঝামাঝি”।’
খবরওয়ালা/এন