খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে উত্তেজনা বাড়ার পর এবার আলোচনায় এসেছে দুই পারমাণবিক প্রতিবেশীর সামরিক সক্ষমতা। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংঘাত বাধলে সংখ্যার দিক থেকে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে থাকলেও তালেবানদের গেরিলা কৌশল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে ইসলামাবাদের জন্য।
দু’দেশের সম্পর্ক একসময় ছিল মিত্রসুলভ। তবে এখন সেই সম্পর্ক সাপে–নেউলে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে পাকিস্তান। অপরদিকে, আফগানিস্তান বহুদিন ধরেই যুদ্ধবিধ্বস্ত ও রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল। ফলে এখন দুই দেশের সামরিক সক্ষমতার পার্থক্য বিশাল।
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্সের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের ১২তম শক্তিশালী সেনাবাহিনী পাকিস্তানের, আর তালিকায় ১১৮ নম্বরে রয়েছে আফগানিস্তান। পাকিস্তানের মোট সেনাসদস্য প্রায় ১৭ লাখ, যার মধ্যে সক্রিয় সদস্য আছেন সাড়ে ৬ লাখ। অন্যদিকে, আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধার সংখ্যা দেড় লাখের মতো, যাদের মূলত প্যারামিলিটারি বাহিনী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তালেবানরা যুক্তরাষ্ট্রের রেখে যাওয়া কিছু সামরিক যান ও অস্ত্র হাতে পেয়েছে বটে, কিন্তু তা পাকিস্তানের ভাণ্ডারের তুলনায় নগণ্য। ইসলামাবাদের কাছে ট্যাংকই রয়েছে দুই হাজারের বেশি, আর সামরিক যান ১৭ হাজারের বেশি।
আকাশপথে সক্ষমতায়ও পাকিস্তানের ধারে কাছে নেই আফগানিস্তান। পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান তিন শতাধিক, আর হেলিকপ্টার রয়েছে ৩৭৩টি, যার মধ্যে ৫০টির বেশি কমব্যাট সক্ষম। বিপরীতে, কাবুলের হাতে ফাইটার জেট নেই; রয়েছে মাত্র ছয়টি হেলিকপ্টার, যার মধ্যে একটি যুদ্ধোপযোগী।
নৌবাহিনীতেও পাকিস্তান অনেক এগিয়ে। ১২১টি যুদ্ধজাহাজ নিয়ে তারা সমুদ্রপথে শক্ত অবস্থানে থাকলেও স্থলবেষ্টিত আফগানিস্তানের নৌবাহিনীই নেই।
সামরিক শক্তির পাশাপাশি বাজেটেও বিরাট ব্যবধান। প্রতিবছর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যয় গড়ে সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলার, যেখানে আফগান সরকারের খরচ মাত্র ২৯ কোটি ডলার।
বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও তুরস্কের সহায়তায় নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, আফগানিস্তান দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এখনো প্রতিরক্ষা খাতে সবল হতে পারেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তালেবানদের গেরিলা কৌশল ও পার্বত্য ভূপ্রকৃতি যেকোনো সংঘাতে তাদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
খবরওয়ালা/এন