খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুলাই ২০২৫
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্রের মুখে এক প্রবাসীকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার ঘটনা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অপহরণকারীরা পালানোর সময় পানগুছি নদীতে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়, তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার এবং চারজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (১৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমতলী সরকারি দীঘি সংলগ্ন চৌরাস্তার একটি চায়ের দোকান থেকে ভারতের বেঙ্গালুরুর প্রবাসী জিয়াউর রহমান জিরুল (পিতা: মজিদ হাওলাদার) কে অপহরণ করা হয়। চা দোকানদার বাচ্চু মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭-১৮ জনের একটি সশস্ত্র দল, সঙ্গে ছিল ৩-৪টি মোটরসাইকেল এবং একটি কালো মাইক্রোবাস। এদের মধ্যে এক নারীও ছিল। সন্ত্রাসীরা জিয়াউর রহমানকে চায়ের দোকান থেকে তুলে এনে মারধর করে, চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে তারা দ্রুত পানগুছি নদীর ফেরিঘাটে পৌঁছে ফেরি চলাচল বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
ঘটনার খবর পেয়ে মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. মতলুবর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ তৎক্ষণাৎ অভিযান শুরু করে। ফেরিঘাটে তল্লাশি চালিয়ে একটি হালকা কালো রঙের হায়েস মাইক্রোবাস থেকে জিয়াউর রহমানকে আহত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ এবং চারজন অপহরণকারীকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন
জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম, খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম খলিলুর রহমান (৪২), হোগলাবুনিয়া, মোরেলগঞ্জ, আমিরুজ্জামান খোকন (৫৫), খুলনার নিরালা গ্রিনভিউ এলাকার বাসিন্দা ও মাইক্রোবাসের চালক, আব্দুস সত্তার রাজ (৫৫), দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা, বটিয়াঘাটা থানা, মোয়াজ্জেম হাওলাদার (৪০), তেতুলতলা গ্রাম।
পরিবার ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য
জিয়াউর রহমান জানান, চা খাওয়ার সময় একটি গাড়ি ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে এসে সন্ত্রাসীরা তাকে ঘিরে ফেলে। তারা মারধর করে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়।
তার স্ত্রী ময়না বেগম জানান, অপহরণের পর তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং ফেরিঘাটে অভিযান চালিয়ে তার স্বামীকে উদ্ধার করে।
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মতলুবর রহমান বলেন,
অপহরণের খবর পেয়ে দুটি দল তাৎক্ষণিক অভিযান চালায়। একপর্যায়ে ফেরিঘাটে মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করা হয়। গাড়িতে থাকা চারজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এই সাহসী ও দ্রুত পুলিশি অভিযানের ফলে প্রাণে বাঁচলেন এক প্রবাসী ব্যবসায়ী। তবে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে এমনভাবে অপহরণ করতে পারে-এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে জননিরাপত্তা ও এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতার ব্যাপারে।
খবরওয়ালা/টিএস