খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। শুধু কথার লড়াই বললে ভুল হবে এতোমধ্যে দুই দেশের সীমান্তে চলছে থেমে থেমে গুলি বিনিময়। যার সূত্রপাত ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে শুরু।
এরই মধ্যে দেশ দুটি সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত, আকাশসীমা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ নিজেদের মধ্যে বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে মধ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাঝার শংঙ্কা ঠিক তখনি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে নিজেদের সক্ষমতার কথা পাকিস্তানকে মনে করিয়ে দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।
পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে একাধিক অ্যান্টি-শিপ (জাহাজ বিধ্বংসী) ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী। ভারতীয় নৌবাহিনী বলছে, এ সফলতা দেশের সমুদ্র নিরাপত্তা ও যুদ্ধ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
রবিবার (২৭ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আরব সাগরে মোতায়েন ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ থেকে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রসহ ভূমি বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নিক্ষেপের একাধিক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছে নৌবাহিনী।
ভারতীয় নৌবাহিনী এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে জানায়, ‘দীর্ঘ পাল্লার নির্ভুল হামলার সক্ষমতা যাচাই ও প্রদর্শনের অংশ হিসেবে প্ল্যাটফর্ম, সিস্টেম ও ক্রুদের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে একাধিক সফল অ্যান্টি-শিপ মিসাইল পরীক্ষা চালানো হয়েছে। ভারতীয় নৌবাহিনী দেশের সামুদ্রিক স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, বিশ্বাসযোগ্য ও ভবিষ্যতমুখী।’
এনডিটিভি জানিয়েছে, এই পরীক্ষাগুলো এমন এক সময় পরিচালিত হয়েছে, যখন জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে ২২ এপ্রিল এক হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। পাকিস্তান নৌবাহিনীর নির্ধারিত সারফেস-টু-সারফেস মিসাইল পরীক্ষার আগে ভারতের এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কাশ্মীরে হামলার পর ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের পদক্ষেপ। অন্যদিকে, পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সিন্ধু নদের পানি বন্ধ করা হলে তা যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হবে।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই পরপর তিন রাত নিয়ন্ত্রণ রেখায় (এলওসি) ভারত ও পাকিস্তান সেনাদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে।
খবরওয়ালা/টিএ