খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫
ফরিদপুরের মধুখালীসহ আশপাশের এলাকায় কাঁচা মরিচের বাজারে হঠাৎ করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ মরিচ বাজার মধুখালী পৌর সদরের পাইকারি বাজারে প্রতিমণ মরিচ বিক্রি হয়েছে ১০ হাজার ৫০০ থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকায়।
সোমবার (১৪ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে স্থানীয় আড়তদার ও কৃষি বিভাগ। অতিবৃষ্টির কারণে মরিচ ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ কাঁচা মরিচের পাইকারি বাজার মধুখালীতে রয়েছে ৩২টি আড়ত। প্রতিদিন গড়ে এক থেকে দুই হাজার মণ মরিচ এখানে আসে। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে চাষিরা জমি থেকে মরিচ তুলতে পারছেন না, অনেক ক্ষেতই পানির নিচে চলে গেছে।
মধুখালী রামদিয়া এলাকার চাষি ফয়সাল হোসেন জানান, পাঁচ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করলেও টানা বৃষ্টিতে গাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মরিচ গাছে ফুল আসছে না, ফলে ফলনও কমে যাচ্ছে।
মধুখালী পাইকারি বাজারের আড়তদার মো. আলম শেখ বলেন, বৃষ্টির কারণে কৃষকরা আগের মতো মরিচ তুলতে পারছেন না। অন্যদিকে চাহিদা বেশি থাকায় দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।
মধুখালী মরিচ বাজার কমিটির সভাপতি মো. লিটন শেখ বলেন, এখান থেকে প্রতিদিন ট্রাকে করে মরিচ পাঠানো হয় ঢাকা, খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায়। উৎপাদনের খরচসহ প্রতিকেজি মরিচে কৃষকের খরচ পড়ছে প্রায় ৭ টাকা, তবে সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।
মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ২৭২০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ হেক্টর আবাদ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৫ হেক্টর সম্পূর্ণভাবে ক্ষতির শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে জেলায় প্রায় ৩১৭০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হচ্ছে। টানা বৃষ্টিতে চাষ ব্যাহত হয়েছে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সরবরাহ বাড়বে এবং দামও স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
কাঁচা মরিচের এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষকরা কিছুটা লাভবান হলেও ভোক্তাদের ভোগান্তি বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খুচরা ক্রেতারা। তারা বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে প্রশাসনের তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
খবরওয়ালা/টিএস