খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 1শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৬ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান এখন দুই বাংলাতেই সমান জনপ্রিয়। বর্তমানে তাঁর অভিনীত নতুন সিনেমা ‘ডিয়ার মা’ কলকাতায় মুক্তির অপেক্ষায়। এই সিনেমা মুক্তির আগেই জয়ার কলকাতায় কাজ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মহিলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদিকা ও কলকাতা পৌরসভার বোরো চেয়ারপার্সন জুঁই বিশ্বাস।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক এক পোস্টে তিনি বলেন, “যেখানে ভারতীয় শিল্পীদের বাংলাদেশে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে জয়া আহসানের মতো অভিনেত্রীকে কেন কলকাতায় রেড কার্পেট দিয়ে স্বাগত জানানো হচ্ছে?” তিনি আরও বলেন, “বলিউড যদি পাকিস্তানি শিল্পীদের নিষিদ্ধ করতে পারে, তাহলে আমরা এত উদার কেন?”
জুঁই বিশ্বাস টলিউড অঙ্গনে বেশ পরিচিত মুখ। তিনি টলিউড ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রীও বটে। তাঁর পোস্টটি দ্রুতই ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং টলিউডের অনেকেই সেটি শেয়ার করেন। তিনি জানান, এটি তাঁর ব্যক্তিগত মত, কোনও রাজনৈতিক দলের অবস্থান নয়।
জুঁই আরও লেখেন, “আমাদের শিল্পী, কলাকুশলীরা বাংলাদেশে আটকে থাকেন, কাজ করতে পারেন না। অথচ জয়া আহসান নিয়মিত এখানে অভিনয় করছেন। চরিত্রটি কি এমন ছিল যে পশ্চিমবঙ্গের কোনও অভিনেত্রী সেটা করতে পারতেন না?”
তাঁর প্রশ্ন আরও বিস্তৃত হয় রাজনৈতিক প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, “মোদিজি যদি ইউনুসের পাঠানো আম গ্রহণ করেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির দুর্দশার কথা কেন বলছেন না?” তাঁর মতে, “যদি বাংলাদেশি দশজন শিল্পী ভারতে কাজ করেন, তাহলে অন্তত পাঁচজন ভারতীয় শিল্পীকেও বাংলাদেশে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত।”
তবে জুঁইয়ের এ বক্তব্য অনেকেই ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর পোস্টে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে ভারতীয় শিল্পীরা এখনও নিয়মিত বাংলাদেশের সিনেমায় কাজ করছেন। কেউ লিখেছেন, “ইধিকা পাল শাকিব খানের সঙ্গে একের পর এক ছবিতে কাজ করছেন। কৌশানী, মিমি, নুসরাত— সবাই তো কাজ করে যাচ্ছেন। জয়া আহসানকে নিয়ে ট্রিগার না হলেই পারতেন।”
অন্য এক মন্তব্যে লেখা হয়েছে, “আপনার হয়তো খোঁজ নেই, কিন্তু শাকিব খানের বরবাদ সিনেমায় কলকাতার শ্যাম ভট্টাচার্য অভিনয় করেছেন এবং দর্শকদের দারুণ সাড়া পেয়েছেন। ইধিকা পালও সেই সিনেমায় ছিলেন।”
বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশে ভারতীয় শিল্পীদের কাজ করার ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। বরং যৌথ প্রযোজনা ছাড়াও কলকাতা ও মুম্বাইয়ের শিল্পীরা কাজ করছেন ঢাকার সিনেমায়। গত বছর মুক্তিপ্রাপ্ত দরদ সিনেমায় নায়িকা ছিলেন মুম্বাইয়ের সোনাল চৌহান।
তাই দুই বাংলার অনেক দর্শক ও নেটিজেনই জুঁই বিশ্বাসের বক্তব্যকে ‘অপভ্রান্ত’ ও ‘তথ্যভিত্তিহীন’ বলে মনে করছেন।
খবরওয়ালা/এমএজেড