খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ এবং তাঁর পরিবারের ব্যবহৃত বিলাসবহুল জিনিসপত্র গুলশানের ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট থেকে নিলামে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ ব্যাপারে একটি নিলাম কমিটি গঠন করেছে।
নিলাম কমিটি সম্প্রতি একটি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, খুব শীঘ্রই সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত সামগ্রী নিলামে তোলা হবে। কমিটি ইতিমধ্যেই নিলাম প্রক্রিয়ার মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
সম্পদের তালিকা
এদিকে, ইতিমধ্যেই জব্দকৃত সম্পদের একটি বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দেখে নিলাম কমিটির সদস্যরা চমকে গেছেন। তাদের মতে, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মকর্তা এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করতে পারেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন! দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যেই বেনজীরের বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে।
কমিটির একজন সদস্য বাসসকে জানিয়েছেন, “ফ্ল্যাটের ব্যবহৃত জিনিসপত্র তালিকা করতে গিয়ে মনে হয়েছে, আমরা ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্কোস এবং ইমেলদা মার্কোসের সম্পদের তালিকা তৈরি করছি। আশির দশকে দুনিয়া কাঁপানো মার্কোস দম্পতির সম্পদ নিয়ে আলোচিত সংবাদগুলো মনে পড়ে যাচ্ছে।”
জব্দকৃত সামগ্রী
জব্দকৃত সম্পদের তালিকায় থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইটেমের মধ্যে রয়েছে: শার্ট: ১২২ টি, প্যান্ট: ২৬৬ টি, ব্লেজার: ৩০ টি, স্যুট: ৮ টি, টি-শার্ট: ৭২২ টি, পাঞ্জাবি: ২২৪ টি, পায়জামা: ৪৭ টি, স্যান্ডেল: ৮৮ জোড়া, কেডস: ৩৫ জোড়া, জুতা: ৩৮ জোড়া, শাড়ি: ৪৯৪ টি, থ্রি-পিস: ২৫০ সেট, সালোয়ার-কামিজ: ৪৯৬ টি, ব্লাউজ: ৬৫ টি, জামা: ২১২ টি, জ্যাকেট: ৫৬ টি, বেডশিট: ১০৯ টি, লেডিস ভ্যানিটি ব্যাগ: ৭৫ টি, লেডিস টপস: ৬২২ টি, সোয়েটার (পুরুষ): ১১ টি, সোয়েটার (লেডিস): ৩৪ টি, লেডিস প্যান্ট: ৩৫৫ টি, লেডিস টি-শার্ট: ২৮ টি, নাইট ড্রেস: ৫৮ টি, ওড়না: ৩৪৭ টি, শাল চাদর: ৮৯ টি, শীতের জামা: ১৩২ টি, লেহেঙ্গা: ১৬ টি, সানগ্লাস: ৩৪ টি এবং ট্রাউজার: ৬৭ টি।
এছাড়াও বডি স্প্রে, পারফিউম, থিয়েটার রুম, কিচেন রুম, বেডরুমসহ অন্যান্য ব্যবহৃত জিনিসপত্র তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটে বিলাসিতা
গুলশানের র্যানকন টাওয়ারে ৪টি আলিশান ফ্ল্যাট একত্রিত করে বেনজীর দম্পতি একটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট তৈরি করেছিলেন। এই ফ্ল্যাটে রয়েছে সুইমিং পুল, মিনি থিয়েটার রুম, অতিথি বিনোদন বৈঠকখানা, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। পুরো ফ্ল্যাটে ১৯টি ফ্রিজ এবং প্রায় ১০০ টন এসি রয়েছে। তবে, ফ্ল্যাটের খাট, ড্রেসিং টেবিল, ডাইনিং টেবিল, সোফা, চেয়ার, আলমারি, ওয়ার্ডরোবসহ কিছু মূল্যবান সামগ্রী প্রাথমিক নিলামের বাইরে রাখা হয়েছে এবং এগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিলাম কমিটি এবং তদন্ত
আদালত কর্তৃক গঠিত নিলাম কমিটির সভাপতি দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতিনিধি, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি এবং ইস্পাত প্রকৌশল অধিদপ্তরের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি। দুদকের উপপরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা) সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।
বেনজীরের অর্থ পাচার ও দেশত্যাগ
২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদ মিথ্যা ঘোষণায় নতুন পাসপোর্ট তৈরি করে গোপনে তার স্ত্রী ও কন্যাদের নিয়ে দেশ ছাড়েন। জানা গেছে, তিনি গোপনে পালিয়ে যাওয়ার সময় তার সঙ্গে ব্যাগভর্তি স্বর্ণালংকার, টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে গেছেন। ইতিমধ্যে দুদক বেনজীরের বিরুদ্ধে ১১ কোটি ৩৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে।
খবরওয়ালা/আরডি