খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৬০০ মিটার কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছিল মাত্র দুই সপ্তাহ আগে।
কিন্তু এরই মধ্যে সড়কটির বেশিরভাগ অংশে ধস নেমেছে। প্রায় ৪০০ মিটার জুড়ে তৈরি হয়েছে গর্ত, খানাখন্দ। গর্তে জমে আছে পানি, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টির মধ্যে কার্পেটিং কাজ করার পাশাপাশি নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার করায় রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কাজের শুরু থেকেই ছিল নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি। তাদের মতে, সঠিক তদারকির অভাব এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার ফলেই এই ভোগান্তি।
জানা গেছে, বাবুল খার দিঘির পূর্বপাশ থেকে সাজানপুর বাজার পর্যন্ত অংশে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ পায় মেসার্স ভুইয়া কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। তবে তারা সরাসরি না করে রুহুল আমিন, জাকির হাওলাদার ও সঞ্জয়ের মাধ্যমে কাজটি করায়। ঠিকাদারেরা হালকা বৃষ্টির মধ্যেই কাজ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে দেন, কিন্তু পরদিনই আবার বৃষ্টির মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হয়—তখন আর কোনো বাধা আসেনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ৬০০ মিটার অংশের মধ্যে অন্তত ৫০টি স্থানে নতুন করে গর্ত তৈরি হয়েছে। পথচারীরা জানান, এই গর্তে যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলার মুখ্য সংগঠক শালেহ আকরাম বলেন, “রাস্তাটি করার সময় আমরা প্রতিবাদ করেছি, কিন্তু তবুও কাজ থামেনি। নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহারে সড়ক আজ এই অবস্থায়।”
এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন জানান, “বৃষ্টির মধ্যে কাজ করার বিষয়টি আমরা জেনে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করি। কিন্তু ঠিকাদার গর্তে পানি থাকা অবস্থায় পরদিনই কাজ শেষ করে। এখন যেহেতু রাস্তা নষ্ট হয়েছে, ঠিকাদার দিয়েই তা ঠিক করানো হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই দুর্বল কাজের দায় শুধু ঠিকাদার নয়, নজরদারির অভাবেও এমন দুর্দশা। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বর্ষায় এই সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
খবরওয়ালা/আশ