খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
তীব্র আন্দোলনের মুখে তাইওয়ানে চীনপন্থী বলে অভিযুক্ত আইনপ্রণেতাদের অপসারণের লক্ষ্যে নজিরবিহীন এক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার অনুষ্ঠিত এ ভোটে দেশটির ২৪টি জেলার নাগরিকেরা তাঁদের নিজ নিজ আইনপ্রণেতাকে অপসারণ করতে চান কি না, সে বিষয়ে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়েছেন।
‘দাবামিয়ান’ বা ‘গ্রেট রিকল’ নামে পরিচিত এ আন্দোলন শুরু হয় নাগরিকদের উদ্যোগে। ধারণা করা হচ্ছে, এই আন্দোলনের ফলাফল তাইওয়ানের রাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির (ডিপিপি) প্রার্থী উইলিয়াম লাই বিজয়ী হলেও পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিরোধী কুওমিনতাং (কেএমটি) দল এবং তাদের মিত্ররা। এতে করে সরকার ও আইনসভার মধ্যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা দেখা দেয়। বিরোধী জোট ডিপিপির প্রস্তাবিত বেশ কিছু বিল আটকে দেয় এবং নিজেদের পক্ষে বিতর্কিত কিছু আইন পাস করে। এতে অনেক নাগরিক ক্ষুব্ধ হন এবং সরকারকে বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তোলেন।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের মে মাস থেকে তাইপেতে শুরু হয় ‘ব্লুবার্ড আন্দোলন’। আন্দোলনের কর্মীরা মনে করেন, বিরোধী দল কুওমিনতাং চীনপন্থী এবং চীনের প্রভাবেই কাজ করছে। তারা অভিযোগ করেন, আইনসভার ভেতর দিয়ে গোপনে বেইজিংয়ের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। যদিও কুওমিনতাং এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবে গত বছর দলটির একদল আইনপ্রণেতার চীন সফর এবং সেখানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতা ওয়াং হুনিংয়ের কাছ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা পাওয়ার ঘটনায় এ সন্দেহ আরও গভীর হয়।
এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে কেএমটির ৩১ জন আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে অপসারণ প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাদের আসনগুলোতে পিটিশন পর্যাপ্ত প্রাথমিক সমর্থন পাওয়ায় চূড়ান্ত ভোটে গড়ায়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কেএমটির সমর্থকেরাও কিছু ডিপিপি আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে একই প্রক্রিয়া শুরু করে।
ভোটে কোনো জেলার ২৫ শতাংশের বেশি নিবন্ধিত ভোটার ভোট দিলে এবং তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ‘হ্যাঁ’ বললে সংশ্লিষ্ট আসনটি বাতিল বলে গণ্য হবে। এরপর তিন মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই কারণে ‘গ্রেট রিকল’-এর সাফল্য অনেকটাই ভোটার উপস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
ব্লুবার্ড আন্দোলনের কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সরাসরি প্রচারে কেএমটির বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছে। কেএমটি ও তাদের মিত্ররা পাল্টা প্রচারে ভোটারদের ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, ডিপিপি এই আন্দোলনের মাধ্যমে আইনসভায় নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।
প্রথমে ডিপিপি আন্দোলন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করলেও পরে দলটি এর প্রতি সমর্থন জানায়। প্রেসিডেন্ট লাই দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের সঙ্গে একত্র হয়ে আন্দোলনকে সহায়তা করার আহ্বান জানান এবং ‘জাতিকে রক্ষা’ করার দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
আগস্ট মাসে দ্বিতীয় ধাপে আরও কিছু আসনে এ ধরনের অপসারণ ভোট গ্রহণ হবে। তাইওয়ানের রাজনীতিতে এই আন্দোলনের ফল কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে।
খবরওয়ালা/এন