খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
পাবনার বেড়া উপজেলায় মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে হাফিজুর রহমান হাফিজ (৪৫) নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং সংঘর্ষে আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
নিহত হাফিজুর রহমান হাফিজ উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও শুকুর আলীর ছেলে। সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে। প্রথমে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৬ জুলাই) দুপুরে তিনি মারা যান।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারাপুর গ্রামে আগে থেকেই দুটি মসজিদ রয়েছে—একটি পুরনো, অন্যটি সম্প্রতি নির্মিত। কয়েক বছর আগে কিয়াম ইস্যুকে কেন্দ্র করে গ্রামে মতবিরোধ দেখা দিলে নতুন মসজিদটি নির্মিত হয়। পুরনো মসজিদের একাংশের সদস্য মতিন ‘কিয়াম’ সমর্থন করে নতুন মসজিদের পক্ষে অবস্থান নেন।
সম্প্রতি নতুন মসজিদের বারান্দা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলে আবারও উত্তেজনা বাড়ে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে নির্মাণ কাজ শুরু হলে বিরোধপূর্ণ পক্ষ তাতে বাধা দেয়। এর জেরে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। লাঠিসোটা, ধারালো অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে হাফিজুর রহমানকে চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়, কিন্তু তিনি আর বাঁচেননি।
তার মৃত্যুর পর শনিবার বিকেলে প্রতিপক্ষের কয়েকজন গ্রামে হামলা চালিয়ে অন্তত ২০টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। পাশাপাশি কিছু বাড়িতে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বেড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলিউর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং সেলিম নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/এসআই