খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
সমসাময়িক নানা বিষয়ে নিয়মিতই নিজের মতামত প্রকাশ করেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এবার তিনি পোশাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে উঠে এসেছে তার জীবনের নানা অভিজ্ঞতা এবং সমাজের নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যক্তিগত উপলব্ধি।
স্ট্যাটাসে বাঁধন লেখেন, ‘এক সময় আমি ছিলাম এক ভারী মিষ্টি মেয়ে—মেধাবী, সহানুভূতিশীল এবং সমাজের নিয়ম-কানুন মেনে চলা। মা-বাবা যা পরতে বলতেন, কিংবা সমাজ যা “শালীন” ভাবত, আমি সেটাই পরতাম। কিশোর বয়সে কখনো জিন্স পরিনি, কারণ তখন বিশ্বাস করতাম, এটা “ভদ্র মেয়েদের” পোশাক নয়। আমি সমাজের চোখে “পারফেক্ট মেয়ে” হওয়ার জন্য নিজেকে গড়ে তুলেছিলাম। কিন্তু একসময় সেই সাজানো পৃথিবী ভেঙে পড়ে।’
ব্যক্তিজীবনের কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘আমি চেয়েছিলাম ডিভোর্স—একটি নির্যাতনমূলক বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে মুক্তি পেতে, যে সম্পর্ক একসময় আমাকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়। সেই সময়, ২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টারে অংশ নিই। সেই মঞ্চ আমাকে নিজেকে নতুন করে চিনতে শেখায়—একজন নারী হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবে। আমি তখনও লাজুক ছিলাম, কিন্তু ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে শুরু করি।’
তিনি লেখেন, ‘তখনও আমি চাইতাম সমাজে “সেরা নারী” হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে। সেই সময়েই আমি প্রথম জিন্স পরি, এমন পোশাক পরি যা আমার গায়ের রং ফুটিয়ে তোলে—যা সমাজ “ভদ্র মেয়েদের” জন্য উপযুক্ত মনে করত না।’
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাঁধন জানান, ‘দ্বিতীয় ডিভোর্সের পর আমি শুধু ব্যর্থতা অনুভব করিনি, বরং মনে হয়েছে সমাজ আমাকে “সবচেয়ে খারাপ নারী” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু ওই ব্যর্থতা আমাকে শিখিয়েছে কীভাবে নিজের অধিকারের জন্য লড়তে হয়, কীভাবে স্বাধীনভাবে বাঁচতে হয়।’
তিনি আরও লেখেন, ‘একদিন এক বন্ধু ফোন করে বলল, “তুমি খুব ভালো বলছ, কিন্তু আরও শালীন পোশাক পরা উচিত।” আমি তখন শুধু হেসেছিলাম।’
টিভি সাক্ষাৎকারে স্লিভলেস ব্লাউজ পরার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাঁধন জানান, ‘একবার এক সাক্ষাৎকারে আমি স্লিভলেস ব্লাউজ পরে গেলে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ আমাকে চুল দিয়ে কাঁধ ঢাকতে বলে। তখন আমাকে অনেক লেকচারও শুনতে হয়। একজন মা হিসেবে, একজন “ভদ্র নারী” হিসেবে, আমাকে সবসময় পোশাক নিয়ে উপদেশ দেওয়া হয়েছে।’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে বাঁধন স্পষ্টভাবে বলেন, ‘এখন এসব নিয়ে আমার কিছুই যায় আসে না। আমি স্বাধীন। কী পরব, কী বলব, কী ভাবব—এটা একান্তই আমার সিদ্ধান্ত।’
নারীদের পোশাক নিয়ে সমাজের মনোভাব নিয়ে তিনি লেখেন, ‘এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি হতাশাজনক। আমাদের নারীদের প্রতিদিন এই বিচার-সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। যেন সমাজের একমাত্র দায়িত্ব নারীদের সংশোধন করা—যেন সেটাই স্বর্গে পৌঁছানোর একমাত্র পথ।’
সব শেষে বন্ধুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমরা যদি ভাবো নারীদের নজরদারির মাধ্যমে তোমার স্বর্গের পথ তৈরি হবে, তবে ভুল করছো। বেহেশতের রাস্তা নিজের কাজের মাধ্যমেই তৈরি হয়—অন্যের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করে নয়।’
খবরওয়ালা/টিএসএন