খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
নওগাঁর নিয়ামতপুরে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসাইন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তাফিজুর রহমান নিয়ামতপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ইকবাল জামিল চৌধুরী লাকি এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অমরেন্দ্রনাথ।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালে মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে নওগাঁর মান্দা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আনিছুর রহমান সাকিদারের মেয়ে রানী বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে নগদ ৪০ হাজার টাকা, একটি ভ্যানগাড়ি ও একটি সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে রিফাত নামে এক ছেলে রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই মোস্তাফিজ যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন। একপর্যায়ে সন্তানের বয়স যখন এক বছর, তখন স্ত্রী রানী বেগমকে তালাক দেন তিনি। পরে রানী বাবার বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
বিচ্ছেদের পর রানীর বাবা আনিছুর রহমান মোস্তাফিজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। কিন্তু নাতির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পরে তিনি মামলা তুলে নিয়ে মেয়ের পুনরায় মোস্তাফিজের সঙ্গে বিয়ে দেন।
পুনরায় বিয়ের পর মোস্তাফিজ আবারও রানীকে ভটভটি কেনার জন্য ৫০ হাজার টাকার দাবিতে মারধর শুরু করেন। ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট রাতে ঝগড়ার এক পর্যায়ে মোস্তাফিজ কাঠের খাটিয়া দিয়ে রানীর মাথায় আঘাত করেন, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। পরদিন রানীর বাবা আনিছুর রহমান নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ইকবাল জামিল চৌধুরী লাকি জানান, মামলায় বাদীপক্ষের ১৪ জন ও আসামিপক্ষের চারজন সাক্ষ্য দেন। সব তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত দণ্ড ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন