খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের এক অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটের লোক পরিচয়ে হোটেল মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম হাবিবুর রহমান উকিল। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী হোটেল মালিক আব্দুর রহমান মল্লিক জানান, গত বুধবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ভেদরগঞ্জ বাজারের ‘জোয়ার-ভাটা’ হোটেলে এসে হাবিবুর রহমান তাকে একটি মোবাইল ফোন ধরিয়ে দেন। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আপনার হোটেলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, লাইসেন্স না থাকা এবং খাবারের মান নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, এমন অভিযোগ পাওয়া মোট ২০টি হোটেলের তালিকা করা হয়েছে এবং শিগগিরই সেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।
আব্দুর রহমান জানান, এরপর ওই ব্যক্তি তার ‘অসহায়ত্বের কথা বিবেচনায়’ তালিকা থেকে হোটেলের নাম বাদ দিতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং তা হাবিবুর রহমানের কাছেই জমা দিতে বলেন।
পড়ে ভয়ে তিনি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হাবিবুরকে ২০ হাজার ৬০০ টাকা পাঠান। তবে পরবর্তীতে বিষয়টি চাঁদাবাজি হিসেবে এলাকায় জানাজানি হলে, গত মঙ্গলবার তিনি ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে হাবিবুরের কাছে টাকা ফেরত চান। তখন হাবিবুর তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমার দোকান বন্ধ করে দেব।’
আরেক হোটেল মালিক আরিফ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার দিন বিকেলেও হাবিবুর আমার হোটেলে এসে বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি পাত্তা না দিলে তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান।’
তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়া স্পষ্ট চাঁদাবাজি। আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুক।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু হোটেল নয়—কল-কারখানা, বেকারি ও ইটভাটাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের একই কৌশলে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করেছেন হাবিবুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন উপজেলার প্রায় ২০টি হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে চাঁদা দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কখনো নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেটের লোক বলে পরিচয় দিইনি। একজন স্যার আমাকে ফোনে বলেন, হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে এবং তাদের সঙ্গে কথা বলাতে। এরপর কে টাকা নিয়েছে, আমি জানি না।’
এ বিষয়ে ভেদরগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মোহাম্মদ মোজাহেরুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। এটি একটি গুরুতর অভিযোগ। তদন্ত করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: সমকাল
খবরওয়ালা/এসআই