খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই ২০২৫
মিয়ানমারে দীর্ঘদিনের জরুরি অবস্থা তুলে নিতে যাচ্ছে দেশটির সামরিক সরকার। পাশাপাশি, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্স জানায়, নির্বাচন আয়োজনের জন্য সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে জান্তা সরকার। যদিও এখনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এমআরটিভির তথ্যমতে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন মিন অং হ্লাইং। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচন তত্ত্বাবধান করবেন এবং সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবেও বহাল থাকবেন।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশটির সেনাবাহিনী। তারা অভিযোগ তোলে, ২০২০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে। সেই অভ্যুত্থানের পর এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম জাতীয় নির্বাচন।
নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন প্রণয়ন করেছে জান্তা সরকার, যার মাধ্যমে সমালোচনা বা প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ‘প্রোটেকশন অব মাল্টিপার্টি ডেমোক্রেটিক ইলেকশন ফ্রম অবস্ট্রাকশন, ডিসরাপশন অ্যান্ড ডেস্ট্রাকশন’ শীর্ষক এই আইন কার্যকর করা হয়েছে ২৯ আগস্ট। আইন অনুযায়ী—
নির্বাচন নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য, লিফলেট বিতরণ, প্রতিবাদ কিংবা সমালোচনায় জড়ালে ব্যক্তিকে ৩ থেকে ৭ বছর এবং প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
ব্যালট নষ্ট করা, ভোটার বা নির্বাচন কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া কিংবা ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করলে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
নির্বাচনী সহিংসতায় কেউ নিহত হলে, জড়িতদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে।
সেনা-সমর্থিত এই নির্বাচনের বিরোধিতা করছে বিরোধী গোষ্ঠী, মানবাধিকার সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক মহল। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সু চি ও এনএলডির শীর্ষ নেতাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীকে আটক করা হয়, যাদের অনেকেই এখনও কারাগারে রয়েছেন।
খবরওয়ালা/টিএসএন