খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২ আগস্ট ২০২৫
নয় বছর কেটে গেলেও বিচার পায়নি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের পরিবার।
একের পর এক তদন্ত ও চার্জশিট, কিন্তু এখনো মিলছে না ন্যায়বিচার—হতাশা নিয়ে দিন গুনছেন তার মা-বাবা।
২০১৬ সালের ১ আগস্ট কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন কাজী নজরুল ইসলাম হল ছাত্রলীগের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী খালেদ সাইফুল্লাহ।
ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছাদেক হোসেন মজুমদার বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই দিনই ছাত্রলীগের তৎকালীন সহসভাপতি রূপম দেবনাথ, যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, ইংরেজি বিভাগের জাহিদুল আলম জুয়েল, লোকপ্রশাসন বিভাগের আবু বকর সিদ্দিক, সুদীপ্ত নাথ ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের স্বজন বরণ বিশ্বাসকে আটক করে পুলিশ।
পরে রাজধানী থেকে বিপ্লব চন্দ্র দাসকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। তবে বর্তমানে সবাই জামিনে মুক্ত।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব প্রথমে জেলা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ওপর ছিল। ডিবি নয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়, কিন্তু নিহত খালেদের মা ফাতেমা আক্তার এতে নারাজি জানান। এরপর মামলাটি পিবিআই এবং পরে সিআইডিতে যায়। সর্বশেষ তদন্তের দায়িত্ব বর্তমান কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে রয়েছে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সরকার পরিবর্তনের পর মামলার আসামিদের পক্ষে তদবিরে নেমেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতারা। নিহত খালেদের মা ফাতেমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আগে ছাত্রলীগের নেতারা সুপারিশ করতো, এখন ছাত্রদলের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান শুভ অর্থের বিনিময়ে আসামিদের পক্ষে তদবির করছে।”
তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শুভ এসে আসামিদের নির্দোষ দাবি করে সুপারিশ করেছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা মুস্তাফিজুর রহমান শুভ।
২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন খালেদের মা ফাতেমা বেগম ও বাবা মো. নুরুল আবেদিন। সেদিন তারা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ইলিয়াস হোসেন সবুজ, বিপ্লব চন্দ্র দাস, রেজা ই এলাহি, আলিফ, ফয়জুল ইসলাম ফিরোজ, আবু বক্কর সিদ্দিক, সাইফ সোহেল ও মাজহারুল ইসলাম হানিফ চার্জশিট থেকে নাম তুলে নেওয়ার জন্য বারবার চাপ দিচ্ছেন।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল মালিক বলেন, “এটি রাজনৈতিক সংবেদনশীল মামলা। তদন্তের কাজ চলমান। কোনো সুপারিশেই চার্জশিট থেকে নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।” তবে তদন্ত কতদিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছাদেক হোসেন মজুমদার জানান, “তদন্ত চলছে। নিহতের মা একাধিকবার নারাজি দেওয়ায় প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগিয়েছে। আমরা আদালতে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী বলেন, “আমরা আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছি। তাঁরা নিয়মিত মামলার অগ্রগতি দেখছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন।”
নয় বছরেও বিচার না পেয়ে খালেদ সাইফুল্লাহর পরিবার এখনো দিন গুনছে। মামলার প্যাঁচে আটকে থাকা এই বিচার নিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বৃহত্তর ছাত্ররাজনীতি অঙ্গনে চাপা প্রশ্ন—এখনো কতদিন?
খবরওয়ালা/আশ