খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৬ আগস্ট ২০২৫
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নিখোঁজ দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার দুপুরে উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের ডাঙি পাইকান এলাকায় একটি অবৈধ বালু উত্তোলন কেন্দ্র (বালুর পয়েন্ট) থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, শিশু দুটিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতরা হলো—ডাঙি পাইকান এলাকার জাকিরুল ইসলামের ছেলে মারুফ মিয়া (৬) এবং আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুর রহমান (৭)। তারা দুজনেই নগরবন্দ বড়াইবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার স্কুল বন্ধ থাকায় সকালে দুই বন্ধু খেলতে বের হয়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ ছিল। বুধবার দুপুর ২টার দিকে ওই এলাকার একটি অবৈধ বালুর পয়েন্টে খোঁজ করতে গিয়ে প্রথমে মারুফ মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। তার গলায় রশি ও একটি বোতল বাঁধা ছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল একই স্থানে অভিযান চালিয়ে আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শী আখতারুজ্জামান মুকুল বলেন, ‘আজ সকালে ফায়ার সার্ভিস আশপাশের পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে। আমি বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে সন্দেহ করি বাচ্চারা বালুর গর্তে থাকতে পারে। গর্তে নামতে চাইলে বালুর পয়েন্টের মালিক আজহারুলের ভাগিনা মনু মিয়া বাধা দেন এবং গালিগালাজ করেন। পরে আমি জোর করে গর্তে নামতেই একটি শিশুর হাত পাই। মরদেহটি মারুফের ছিল। তার বুকের সব হাড় ভাঙা, গলায় রশি ও বোতল বাঁধা ছিল। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আরও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, শিশু দুটিকে হত্যা করা হয়েছে।’
গঙ্গাচড়া ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকাল পৌনে ১১টার দিকে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আমরা খবর পাই যে, ডাঙি পাইকার এলাকায় ঘাঘট নদীতে দুটি শিশু পড়ে গেছে। রংপুর থেকে ডুবুরি দল আসার আগেই আমরা এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করি। স্থানীয় মুকুল নামে একজন ব্যক্তি প্রথমে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর আমাদের ডুবুরি দল আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করে।’
নিহত শিশু মারুফের বাবা জাকিরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল থেকে আমার ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। আমরা নিজেরাই অনেকবার ওই বালুর পয়েন্টে খুঁজেছি, কিন্তু আজহারের লোকজন আমাদের বাধা দিয়েছে। আজ সেখান থেকেই আমার ছেলের মরদেহ পাওয়া গেছে। আমি আমার সন্তানের হত্যার সঠিক বিচার চাই।’
মারুফের মা রাশেদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘হামার ছওয়াক ওমরা মারি ফেলাইছে। হামরা তো কারও ক্ষতি করি নাই। হামার ছওয়াক কেনে মারিল। হামরা বিচার চাই, আর কিছু চাই না।’
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল এমরান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শিশু দুটির মৃত্যু নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। তাই লাশ দুটি উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
খবরওয়ালা/এসআই