খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট ২০২৫
শেরপুরের শ্রীবরদীতে অসুস্থ স্ত্রীকে মাটিতে পুঁতে ফেলার চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকেই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বৃদ্ধ স্বামীর শাস্তি দাবি করেন। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘটনার পেছনে রয়েছে ভিন্ন চিত্র—স্থানীয়দের দাবি, নাতির ফেসবুক ভিউ ব্যবসার বলী হয়েছেন বৃদ্ধ।
প্রশাসনের মতে, দীর্ঘদিন অসুস্থ স্ত্রীকে সেবা করতে করতে বৃদ্ধ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন, যার ফলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খলিলুর রহমান প্রায় ১০ বছর ধরে স্ত্রী খোরশেদাকে সেবা করে আসছেন। শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেলে শ্রীবরদীর কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের খোশালপুর কানিপাড়া গ্রামে প্লাস্টিকের কমোড চেয়ার বসানোর জন্য তিনি উঠানে গর্ত করেন। এ সময় স্ত্রী বিছানায় প্রাকৃতিক কাজ সারলে ক্ষোভে তাকে টেনে গর্তের কাছে নিয়ে আসেন। এ দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে নাতি খোকন মিয়া, যিনি উদ্ধার না করে বরং নানা রকম প্ররোচনা দেন।
পরে স্থানীয়রা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নেন। ফেসবুকে আয়ের আশায় ভিডিওটি নিজের পেজে ছড়িয়ে দেন খোকন মিয়া, যা বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দেয়। ফলে স্থানীয়রা খোকনের শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যে, খলিল এর আগে স্ত্রীকে অবহেলা করেননি—নিজ হাতে গোসল করানো থেকে শুরু করে খাবার প্রস্তুত করা পর্যন্ত সবই করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন দুর্গন্ধময় পরিবেশে থাকার কারণে তার মানসিক ভারসাম্য কিছুটা নষ্ট হয়েছে।
খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমি ছাড়া আমার স্ত্রীর আর কেউ নেই। শুক্রবার কমোড চেয়ার বসানোর সময় স্ত্রী বিছানায় প্রাকৃতিক কাজ করে দেন, রাগের বশে এই কাজ করি। আমি অনুতপ্ত।’
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ‘ভিডিওতে যা উপস্থাপন করা হয়েছে, তা পুরোপুরি বিকৃত। খলিল প্রায় ১০ বছর ধরে স্ত্রীকে সেবা করছেন। নোংরা পরিবেশে থাকতে থাকতে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আমরা দম্পতিকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর চেষ্টা করছি।’
বৃদ্ধ দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে দুইজন প্রবাসে এবং এক মেয়ে অন্ধ হয়ে রাজধানীতে ভিক্ষাবৃত্তি করেন।
খবরওয়ালা/এসআই