খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের শ্রম আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সংস্কারের তাগিদ দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।
তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে বৈঠকে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল এ আহ্বান জানায়।
বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর চাহিদা অনুযায়ী শ্রম আইন সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরেন মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। শ্রম অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে চলমান আইন সংস্কারের অগ্রগতি সম্পর্কেও অবহিত করেন বিজিএমইএর সভাপতি।
মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদলে ছিলেন লেবার অ্যাটাশে লীনা খান, ফরেন কমার্শিয়াল সার্ভিস অ্যাটাশে পল জি ফ্রস্ট এবং ফরেন অ্যাগ্রিকালচারাল সার্ভিস অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট। বৈঠকে বিজিএমইএর সভাপতি ছাড়াও জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, মিজানুর রহমান, ভিদিয়া অমৃত খান, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম, পরিচালক ফয়সাল সামাদ এবং শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে মাহমুদ হাসান খান বলেন, তৈরি পোশাক খাতের শ্রম পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা বিজিএমইএর অন্যতম অগ্রাধিকার। তাঁর নেতৃত্বে পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ৮১টি শ্রমিক ফেডারেশনের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সুষ্ঠু শিল্প সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতি নিয়েও আলোচনা হয়। মার্কিন নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা তৈরি পোশাকে যদি অন্তত ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার হয়, তবে নতুন শুল্ক থেকে আনুপাতিক ছাড় মিলবে। বিজিএমইএ নেতারা জানতে চান, এই কাঁচামাল ব্যবহারের হিসাব, মূল্যায়ন ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া কীভাবে হবে। এ ব্যাপারে মার্কিন দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন তাঁরা।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি বাড়াতে চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে একটি গুদাম স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রস্তাব করা হয়, এটি বাংলাদেশি, মার্কিন বা যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলা যেতে পারে, যা তৈরি পোশাক রপ্তানির লিড টাইম কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি পলিয়েস্টার ও নাইলনের মতো ম্যান-মেড ফাইবার আমদানির আগ্রহও প্রকাশ করেন বিজিএমইএ নেতারা। মার্কিন বাণিজ্যিক সেবা অ্যাটাশে পল জি ফ্রস্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে বিস্তারিত জানানো হবে।
বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে আগামী মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ব্যবসায়িক সম্মেলন সিলেক্ট ইউএসএ তে অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। তাঁদের মতে, এই সম্মেলন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক উদ্যোক্তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার একটি বড় সুযোগ হবে।
খবরওয়ালা/আশ