আবরারের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হওয়া, কারা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র এবং তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদের পলাতক হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও রায় দ্রুত কার্যকরের দাবিতে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুর ২টায় কুষ্টিয়া জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানের বর্তমান এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এই মানববন্ধন আয়োজন করে। এতে শহীদ আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ (বুলু), ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা বরকত উল্লাহ (বুলু), ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নুর ইসলাম সাহস, আফজাল সজীব, মুক্তাদির হাসান মাসুক প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের সাবেক ছাত্র এবং বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে বিচারিক আদালত ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে, হাইকোর্টের রায়ে এই শাস্তি বহাল থাকলেও, এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে—মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমি গত বছরের ৬ আগস্ট গাজীপুরের হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে গেছে। এতদিন কারা কর্তৃপক্ষ কেন এ বিষয়টি জানায়নি? প্রায় সাত মাস পর এটি প্রকাশ্যে আসলো, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির এভাবে পালিয়ে যাওয়া কারা ব্যবস্থাপনার গুরুতর ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় চরম অবহেলা। এর পাশাপাশি, পলাতক আরও তিন আসামি—মোর্শেদ জামান মন্ডল, জিসান-উজ, এহতেশামুল রাব্বি তানিম এবং মুজতবা রাফিদ—এই মামলার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছে।’

মানববন্ধনে সকল ন্যায়পরায়ণ নাগরিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে আহ্বান জানানো হয় যেন তারা এই ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে এবং দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জন্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করে। বক্তারা দাবি জানান, ‘দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করা হোক, কারা ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য কারাগারে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

এ ছাড়া, বক্তারা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদকে ফেসবুকে ভারত-বাংলাদেশ অসম চুক্তি ও পানি সমস্যার বিষয়ে স্ট্যাটাস দেওয়ার জেরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং ১৩ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চার্জশিট দাখিল করেন।

আবরার ফাহাদ ১৯৯৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কুষ্টিয়া মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা এবং কুষ্টিয়া জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি নটরডেম কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন এবং ২০১৮ সালের ৩১ মার্চ বুয়েটে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর, তার হত্যাকাণ্ডে দেশের একমাত্র আলোচিত ও নৃশংস ঘটনা হয়ে ওঠে।

 

খবরওয়ালা/আরডি

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।