কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক গৃহবধূকে হত্যার পর লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৩ আগষ্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের মধ্যম হাজিরাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) এ ঘটনায় নিহত সুমাইয়া আক্তারের বাবা সেলিম মিয়া বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সেলিম মিয়া বলেন, সকাল ১০ টায় ছেলের বাবা ফোন করে জানিয়েছিল সুমাইয়া অসুস্থ।
পরে আবার ১১টায় কল দিয়ে জানায় সে মারা গেছে। তখনই বুঝলাম তারা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমি পুলিশে খবর দিবো বলায় তারা লাশ ফেলে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। আমি হত্যা মামলা করেছি। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বিচার দাবি করছি।
স্থানীয়রা জানায়, ৩ বছর আগে মধ্যম হাজিরাপাড়া গ্রামের লোকমানের সঙ্গে সুমাইয়া আক্তারের (২৫) বিয়ে হয়। তাদের ২ বছরের একটি ছেলে আছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সুমাইয়ার স্বামী লোকমান, শ্বশুর মনু মিয়া, শাশুড়ি সালেহা বেগম ও ননদ মানসুরা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে সুমাইয়ার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
পারিবারিক কলহের মাঝে বুধবার বিকালে সুমাইয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা বলে প্রচার করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক হেশাম বলেন, ‘লাশের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিলো। লাশ উদ্ধার করতে গিয়ে দেখি বাড়িতে কেউ নেই। আত্নহত্যার কথা বললেও লাশ ঝুলে থাকতে কেউ দেখেনি। আমরাও লাশ খাটে শুয়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করি।’
সুমাইয়ার মা বিলকিস বেগম বলেন, জামাইকে বিদেশ পাঠানোর জন্য আমরা পুরো টাকা দিয়েছি। মেয়েকে অত্যাচার করার কারণে যখনই টাকা চাইছে তখনই টাকা দিছি। তার টাকা লাগলে টাকা চাইত। আমার মেয়েকে কেন হত্যা করলো। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় বক্তব্য নিতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে কুমেক হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।’
খবরওয়ারা/এমইউ



