খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট ২০২৫
বাংলার সংগ্রামী ইতিহাসে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ এক অম্লান নাম। অবিচল সাহস, অটল নেতৃত্ব ও অকৃত্রিম দেশপ্রেমে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর এবং মুক্তির আন্দোলনের পথপ্রদর্শক।
১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা উপজেলার তারুটিয়া গ্রামের এক পীরবংশে তাঁর জন্ম। পিতা শাহ সৈয়দ আবু ইসহাক এবং মাতা আজিজুন্নেছা। শৈশব থেকেই তিনি সত্যনিষ্ঠা, ধর্মনিষ্ঠা ও সংগ্রামী মানসিকতায় গড়ে ওঠেন।
সলঙ্গা বিদ্রোহ (১৯২২)
১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তাঁর নেতৃত্বে সলঙ্গা হাটে অনুষ্ঠিত হয় ব্রিটিশবিরোধী বিলেতি পণ্য বর্জন আন্দোলন। ওইদিন পুলিশের নির্বিচার গুলিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ হতাহত হন। ইতিহাসে এই ঘটনা অমর হয়ে আছে “সলঙ্গা বিদ্রোহ” নামে, যা বাংলার স্বাধীনতাকামী মানুষের সংগ্রামকে নতুন মাত্রা দেয়।
ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রগামী নেতা। বাংলার মর্যাদার প্রশ্নে তিনি আপসহীন অবস্থান নেন এবং আন্দোলনের কর্মসূচি ও সংগ্রামে সক্রিয় নেতৃত্ব দেন।
গণপরিষদে প্রথম বাংলাভাষী বক্তব্য (১৯৫৫)
১৯৫৫ সালের ১২ আগস্ট পাকিস্তানের গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে তিনি প্রথমবারের মতো বাংলা ভাষায় বক্তব্য রাখেন। এই সাহসী পদক্ষেপ রাজনৈতিক অঙ্গনে ভাষা আন্দোলনকে শক্তিশালী করে তোলে।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব (১৯৫৬–১৯৬৭) টানা এক যুগ তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে দল সংগঠিত হয়, সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দলীয় কর্মকাণ্ড শক্ত ভিত পায়।
অন্যান্য আন্দোলনে অবদান
কৃষক আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন
জাতির প্রতিটি ক্রান্তিকালে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন।
মহাপ্রস্থান
১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট, রাতের শেষ প্রহরে ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে তিনি পরলোকগমন করেন।
বাংলার মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা—যাঁর সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্ব যুগে যুগে বাঙালিকে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড