খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
এ বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য আগ্রহ রয়েছে। তবে বিমান সংযোগ না থাকলে এটি সম্ভব নয়। আমরা এই বছরের শেষ নাগাদ সরাসরি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে ও বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে ফ্লাইট চূড়ান্ত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের উদ্যোগে নগরের আগ্রাবাদ বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে তিনি বলেন, সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হলে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক সংযোগ ও পণ্য পরিবহন সহজ হবে।
জাম কামাল খান জানান, আগামী রবিবার দুই দেশের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ নিয়ে চুক্তি সই হবে। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে কী কী করতে হবে, তা এই গ্রুপ নির্দিষ্ট করবে। এর বাইরে জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন রয়েছে, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্পসহ সামগ্রিক বিষয়গুলো দেখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভাবছি আগামী কয়েক বছরের জন্য একটি বাণিজ্য রোডম্যাপ তৈরি করব। কোন খাতগুলোতে নজর দিতে হবে, কোথায় বিনিয়োগ আসবে, কোন খাত রপ্তানি-আমদানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে—সেসব ওই রোডম্যাপে উঠে আসবে।’
বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় বাজার উল্লেখ করে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের খাদ্য, সরবরাহ, নির্মাণসামগ্রী, টেক্সটাইল, পোশাক, চামড়া, জুতা—সবকিছুই আমাদের জানা আছে। আমরা ইতিমধ্যেই এসব খাত নিয়ে কাজ করছি। তাই আমাদের খুব বেশি গবেষণা করতে হয় না।’
ইতিমধ্যেই পাকিস্তান থেকে ১০টির বেশি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা নির্দিষ্ট খাত চিহ্নিত করেছি। আরও অনেক ডেলিগেশন আসবে সামনে। একইভাবে আমি এখানকার ব্যবসায়ী সমাজকেও পাকিস্তানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। শুধু ব্যবসায়ী পর্যায়ে নয়, বরং জাতীয় মেলাতেও তারা অংশ নিতে পারে। নভেম্বরে আমাদের ফুড এক্সপো হবে। বছরে ছয় থেকে সাতটি ফ্ল্যাগশিপ এক্সপো হয়, যা ব্যবসা বিস্তারের জন্য দারুণ প্ল্যাটফর্ম।’
ভিসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ভিসা প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। এখন অনলাইনে আবেদন করলে অনলাইনেই ভিসা পাওয়া যাচ্ছে। ছয়-সাত মাস ধরে পাকিস্তান ভিসা প্রক্রিয়া অনলাইনে করেছে।’
জাহাজ চলাচল নিয়েও আগ্রহের কথা জানান জাম কামাল খান। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং করপোরেশন এ বছর আরও জাহাজ কেনার পরিকল্পনা করছে। বড় জাহাজ ছাড়াও ছোট রুটের জন্য পণ্যবাহী জাহাজ ও কনটেইনার জাহাজ কিনবে। যদি চাল, গম, নিত্যপণ্যের মতো নির্দিষ্ট কোনো পণ্য সরাসরি আদান–প্রদান হয়, তাহলে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।’
সম্প্রতি এক চালবাহী জাহাজ বাংলাদেশে আসতে ১০ দিনের বেশি সময় নিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বাধাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। যৌথ উদ্যোগে আমরা বিশেষভাবে আগ্রহী। শুধু রপ্তানি নয়, যৌথভাবে আফ্রিকা, সেন্ট্রাল এশিয়া বা অন্য দেশগুলোর বাজারেও প্রবেশ করা যেতে পারে।’
বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের বাণিজ্যে বৈচিত্র্য ও সক্ষমতা বাড়াতে যতগুলো দেশের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া সম্ভব, আমরা চেষ্টা করছি। বিক্রয় প্রবৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আমদানির সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে সুন্দর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাণিজ্য বৃদ্ধি, আমদানি-রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যে খাতগুলোর কথা বলা হয়েছে তার বাইরেও আমরা কাজ করছি। আশা করি, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের একত্র শক্তিতে প্রবৃদ্ধি আসবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চেম্বারের প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। বক্তব্য দেন বিএসআরএম চেয়ারম্যান আলিহুসেইন আকবরআলী, বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, চেম্বারের সাবেক পরিচালক আমজাদ হোসাইন চৌধুরী প্রমুখ। সমাপনী বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়া উদ্দিন।
বৈঠকে বক্তারা দুই দেশে সরাসরি ফ্লাইট চালু, ব্যবসায়ী পরিধি বৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
খবরওয়ালা/শরিফ