খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ আগস্ট ২০২৫
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান থামিয়ে চালক শামীম হোসেনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে মহাসড়কের বিশমাইল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের শামীম হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে।
জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকা থেকে একটি সিমেন্ট কোম্পানির কাভার্ডভ্যানে সিমেন্ট ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় সরবরাহ করতেন শামীম। তাকে কে বা কারা কেন হত্যা করেছে, কিছুই জানাতে পারেনি পুলিশ। ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল সিমেন্টের বস্তাবোঝাই কাভার্ডভ্যান। গতকাল সকাল ৮টার দিকে সাগর আলী নামের এক অটোরিকশাচালক শামীমকে সাভার এনাম মেডিকেল নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
অটোরিকশাচালক সাগর আলী বলেন, বিশমাইলে যাত্রী নিয়ে গিয়েছিলাম। ফেরার পথে লোকজনের জটলা। পরে সেখানে গিয়ে দেখি, ওই চালক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। সেখানে থাকা লোকজনের মধ্যে একজন বলেন, তাকে হাসপাতালে নেওয়া দরকার। তখন সবাই মিলে আমার রিকশায় শামীমকে তুলে দেন। আমি তাকে এনাম মেডিকেলে নেওয়ার সময় তিনি মারা যান।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আলী বিন সোলাইমান বলেন, ‘ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে।’
শাহ সিমেন্টের পরিদর্শক মোহাম্মদ হানিফ শিকদার বলেন, ‘৩০০ বস্তা সিমেন্ট নিয়ে শামীম সাভারে আসছিলেন। দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে সিমেন্ট বা কিছু ছিনতাই হয়েছে কিনা, এখনও জানা যায়নি।’
সাভার মডেল থানার এসআই মেহেদী হাসান বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে খবর পেয়ে এনাম মেডিকেলে গিয়ে শামীমের মরদেহ দেখতে পাই। সুরতহাল করে তার হাঁটুর ওপর ছুরিকাঘাতের গভীর চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠিয়েছি।’
আশুলিয়া থানার ওসি আবদুল হান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কাভার্ডভ্যানের চালককে গাড়ির মধ্যেই দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে। তবে এটি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে হত্যা, নাকি অন্য কোনো কারণে– তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গাড়িতে শামীমের কোনো সহকারী ছিল কিনা, সেটাও জানার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই থানায় হত্যার অভিযোগ করেছেন।
খবরওয়ালা/এমইউ