খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারী ব্যক্তিদের দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সমাধানের সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামকে প্রধান করে ১৪ সদস্যের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যেসব সরকারি সংস্থা প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়, তাদের প্রধানদের ওয়ার্কিং গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটি এক মাসের মধ্যে সুপারিশ দেবে।
এর আগে বুধবার প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকে সভাপতি করে আট সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বিএসসি ও ডিপ্লোমাধারীদের এ সমস্যা নতুন নয়, বহুদিনের। সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। সে কারণেই ১৪ সদস্যের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে।
তিনি আন্দোলনকারীদের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তাঁরা চাইলে লিখিতভাবে তাঁদের দাবি ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রধানকে জমা দিতে পারেন বা কমিটির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। রাতারাতি সমাধান হবে না, একটু সময় দিতে হবে।”
কমিটির প্রধান ফাওজুল কবির খান বলেন, “মূল কমিটি আন্দোলনকারী ও অভিভাবকদের সঙ্গে বসবে। পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ নিয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করা হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে নিরপেক্ষ সমাধান বের করা হবে।” তিনি জানান, ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে।
বর্তমানে প্রকৌশলীদের তিন দফা এবং ডিপ্লোমাধারীদের সাত দফা দাবি নিয়ে দুই পক্ষ আন্দোলন করছে।
বিএসসি প্রকৌশলীদের দাবি হলো, ৯ম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদে কেবল পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ ও ন্যূনতম যোগ্যতা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার করা, ১০ম গ্রেডে শুধু ডিপ্লোমাধারীদের জন্য নিয়োগের সুযোগে উচ্চ ডিগ্রিধারীদেরও আবেদন করার সুযোগ দেওয়া, কেবল বিএসসি ডিগ্রিধারীরাই যেন ‘প্রকৌশলী’ (ইঞ্জিনিয়ার) উপাধি ব্যবহার করতে পারেন এ ব্যবস্থা করা।
অন্যদিকে ডিপ্লোমাধারীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রকৌশল কর্মক্ষেত্রে বিএসসি ও ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে ভাগ করা, উপসহকারী প্রকৌশলী পদ কেবল পলিটেকনিক ও মনোটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষণ, জনবল কাঠামোয় বিএসসি ও ডিপ্লোমাধারীদের অনুপাত ১:৫ নির্ধারণ, উপসহকারী প্রকৌশলী থেকে সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির কোটা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা, প্রশাসনিক পদে প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ, অন্য ক্যাডারে প্রকৌশলীদের নিয়োগ বা পেশা পরিবর্তন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা, ডিপ্লোমা শিক্ষার মানোন্নয়নে আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:১২ নিশ্চিত, ল্যাব ও ওয়ার্কশপ আধুনিকায়ন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি বাড়ানো এবং ক্রেডিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে জানানো হয়, ‘প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমাধারীদের পেশাগত দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য’ আট সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটির সভাপতি ফাওজুল কবির খান ও সদস্যসচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সওবা) কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক। সদস্যরা হলেন— উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরার, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সভাপতি প্রকৌশলী মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের সভাপতি প্রকৌশলী ম. কবির হোসেন এবং বোর্ড অব অ্যাক্রেডিটেশন ফর ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশনের সভাপতি প্রকৌশলী তানভির মঞ্জুর।
খবরওয়ালা/আশ