আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত আবাসন ভাতার প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ ধারণ করেছে। সংসদ সদস্যদের জন্য দেশের ন্যূনতম মজুরির ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি আবাসন ভাতা অনুমোদনের খবরে জনরোষ বিস্ফোরিত হয়, যা ধনী ও গরিবের মধ্যেকার বৈষম্যকে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তাল হয় যখন রাজধানী জাকার্তায় পুলিশের গাড়ির ধাক্কায় ফুড ডেলিভারি কর্মী আফফান মারা যান। তার মৃত্যু সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও তীব্র করে তোলে। এরপর বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সদর দফতরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। আফফানের ঘটনা ইন্দোনেশিয়ার কোটি কোটি স্বল্প আয়ের মানুষের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখা হয়।
জাকার্তা থেকে সুমাত্রা, সুলাওয়েসি, কালিমান্তান ও বালি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সংঘর্ষে সরকারি ভবন ও সংসদ সদস্যদের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা কেবল অতিরিক্ত ভাতার বিরুদ্ধে নয়, বরং সামগ্রিক দুর্নীতি, বৈষম্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোতে ব্যয় কমানোর ফলে তার জনপ্রিয়তা কমেছে। তবে দুর্নীতি দমন, অতিরিক্ত বল প্রয়োগের দায়ীদের শাস্তি এবং স্বচ্ছ শাসন ব্যবস্থা চালু করলে জনগণের আস্থা কিছুটা ফিরে আসতে পারে।
জনগণের চাপের মুখে সংসদ আবাসন ভাতা বাতিল, বেতন বৃদ্ধি স্থগিত এবং অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে এতেই ক্ষুব্ধ জনতার মন শান্ত হবে কিনা, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ২৮ কোটিরও বেশি মানুষ এখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈষম্য ও সামরিক প্রভাব বিস্তারের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মূল দাবি হলো—মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা, শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
অনেকের মতে, এই দাঙ্গা ১৯৯৮ সালের পরিস্থিতিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন স্বৈরশাসক সুহার্তোর পতন হয়েছিল। তবে এবার তেমনটি হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদিও ইন্দোনেশিয়া একটি সাংবিধানিক গণতন্ত্র, রাজনৈতিক ক্ষমতা এখনো একটি ক্ষুদ্র অভিজাত শ্রেণির হাতে বন্দি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এই বিক্ষোভকে তার কর্তৃত্ব আরও দৃঢ় করতে ব্যবহার করতে পারেন এবং সামরিক আইন জারি করার মতো পদক্ষেপও নিতে পারেন। এর ফলে ভবিষ্যতে নাগরিক সমাজ ও সমালোচকদের ওপর কঠোর দমন-পীড়ন শুরু হতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন