খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে ভাদ্র ১৪৩২ | ৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুরুতর আহত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ সাত দিন পর চেতনা ফিরে পেয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। একই ঘটনায় আহত সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুনও ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. এ টি এম রেজাউল করিম জানান, শনিবার সকালে মেডিকেল বোর্ডের পর্যবেক্ষণে ইমতিয়াজের লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলা হয়। এরপর তিনি মা-বাবা ও ভাইকে চিনতে পারেন এবং সামান্য কথাবার্তাও বলেন। বর্তমানে তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন ও জ্ঞানের মাত্রা প্রায় স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে তাকে আরও কিছুদিন আইসিইউতে রাখা হবে।
অন্যদিকে, আহত শিক্ষার্থী মামুনের শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে। শনিবার তাকে কিছুক্ষণ হাঁটানো হয়। যদিও চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার খুলির প্রতিস্থাপন সার্জারি করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
তবে মামুনের হাঁটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ছবিতে তাকে অন্যের কাঁধে ভর দিয়ে হাঁটতে ও হাত উঁচু করে থাকতে দেখা যায়। অনেকেই ধারণা করেন, তাকে সুস্থ দেখানোর চেষ্টা চলছে। মামুনের ভাই মাসুদ রানা প্রশ্ন তোলেন, এই অবস্থায় তার ভাই কি সত্যিই ওইভাবে হাঁটার মতো সক্ষম? তিনি জানান, মামুন ইশারায় ও লিখে যোগাযোগের চেষ্টা করছে, তবে অবস্থার এখনও উন্নতি প্রয়োজন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাঁটানোসহ অন্যান্য অনুশীলন চিকিৎসা প্রক্রিয়ার অংশ। যে চিকিৎসক মামুনের অপারেশন করেছেন, তিনি নিজেই পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে হাঁটান। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ আগস্ট সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথায় গুরুতর জখম হন ইমতিয়াজ ও মামুন। ওই রাতেই অস্ত্রোপচারের পর তাদের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরবর্তীতে মামুনকে কেবিনে স্থানান্তর করা হলেও ইমতিয়াজ এখনও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় ৩০ আগস্ট রাতে চবির ২ নম্বর ফটক এলাকায় এক ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। এরপর রাত থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, তাদের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড