খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পিচঢালা সড়কের বুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল দুটি বানর। একটির কান বেয়ে ঝরছিল রক্ত, পাশে নিথর মায়ের গলায় জড়িয়ে শাবকটির আকুতি। অন্যদিকে গাছে জড়ো হয়ে চিৎকার করছিল বানরের দল, যেন শোক আর প্রতিবাদে কাঁপছিল গোটা পরিবেশ।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের মূল সড়কে বেপরোয়া গতির গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায় দুটি বানর। ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে হৃদয়বিদারক ভিডিও ও ছবি।
ভিডিওতে দেখা যায়, পিচঢালা সড়কে পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত বানর। একটি বানরের কান বেয়ে রক্ত ঝরছে, ভিজে যাচ্ছে সড়ক। মৃত মায়ের গলায় জড়িয়ে শাবকটি বারবার আকুতি জানাচ্ছে—মা যেন উঠে দাঁড়ায়। এসময় গাছের ডালে জড়ো হয়ে থাকা বানরের দল বিকট শব্দে চিৎকার করছে, যেন শোকে মুহ্যমান হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে প্রিয়জন হারানোর।
প্রকৃতিপ্রেমীরা জানান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে এর আগেও বহু বন্যপ্রাণী বেপরোয়া গাড়ির চাপায় প্রাণ হারিয়েছে। যদিও উদ্যানে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার নির্ধারিত, বাস্তবে তা মানা হয় না। মানুষের বেপরোয়া চালনা আর অসচেতনতায় হারিয়ে যাচ্ছে বনের প্রাণীরা।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী আব্দুর রব বলেন, ‘এটা শুধু বানরের মৃত্যু নয়, আমাদের অমানবিকতার প্রতিচ্ছবি। সড়কে প্রাণ হারানো এই মা-শিশুর ছবি দেখে চোখে জল এসেছে। এই ঘটনা যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়—মানুষ কীভাবে এত নিষ্ঠুর হতে পারে?’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘যান চালানোর সময় আমরা শুধু নিজেকে দেখি, চারপাশের প্রাণ আর প্রকৃতিকে দেখি না বলেই এমন ঘটনা ঘটছে। মানুষের বেপরোয়া গতিই বনের প্রাণীদের জন্য মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নাজমূল হক জানান, ‘সন্ধ্যার কিছু আগে উদ্যানের সড়কে দ্রুতগতির একটি গাড়ির চাপায় বানর দুটির মৃত্যু হয়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বানরের মৃতদেহ আর পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো বন্য প্রাণী সেগুলো টেনে নিয়ে গেছে।’
খবরওয়ালা/শরিফ