খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে “মুকুটহীন সম্রাট” হিসেবে খ্যাত কিংবদন্তি অভিনেতা আনোয়ার হোসেন ছিলেন আন্তর্জাতিক মানের বলিষ্ঠ শিল্পী। পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি প্রায় পাঁচ শতাধিক ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে তোলেন।
১৯৩১ সালের ৬ নভেম্বর জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশব থেকেই নাটক ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। স্কুলজীবনে আসকার ইবনে শাইখের পদক্ষেপ নাটকে অভিনয় করেছিলেন। রূপালি পর্দার কিংবদন্তি ছবি বিশ্বাস ও কানন দেবীর প্রতি আকর্ষণ তাঁকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসে।
১৯৬১ সালে মহিউদ্দিন পরিচালিত তোমার আমার চলচ্চিত্রে খলনায়ক চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের সূচনা হয়। তবে ১৯৬৭ সালে খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছবিতে নাম ভূমিকায় তাঁর অসাধারণ অভিনয় তাঁকে এনে দেয় চিরস্মরণীয় খ্যাতি এবং “মুকুটহীন সম্রাট” উপাধি।
অভিনয় জীবনে তিনি খলনায়ক, চরিত্রাভিনেতা ও নায়ক—সব চরিত্রেই সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন। লাঠিয়াল ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালে পান আজীবন সম্মাননা।
তাঁর অভিনীত অসংখ্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে— চোখের জলে, সূর্যস্নান, জোয়ার এলো, কাঁচের দেয়াল, নতুন দিগন্ত, রাজা সন্ন্যাসী, রূপবান, গাজী কালু চম্পাবতী, স্বর্ণকমল, নীল আকাশের নীচে, বাহরাম বাদশা, লালন ফকির, রংবাজ, আলোর মিছিল, ঈশা খাঁ, লাঠিয়াল, দেবদাস, বড় ভালো লোক ছিল, লালুভুলু, ভাত দে, ত্যাজ্যপুত্র, ঢেউয়ের পর ঢেউ প্রভৃতি।
ব্যক্তিজীবনে তিনি নাসিমা খানমের সঙ্গে ১৯৬৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের চার পুত্রসন্তান রয়েছে।
২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে এই মহান অভিনেতা পরলোকগমন করেন। তাঁর মৃত্যুতে সমাপ্তি ঘটে বাংলা চলচ্চিত্রের এক সোনালি অধ্যায়ের।
বাংলা চলচ্চিত্রের প্রাণপ্রিয় নায়ক, চরিত্রাভিনেতা, কিংবদন্তি— অভিনেতা আনোয়ার হোসেন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন কোটি দর্শকের হৃদয়ে।
খবরওয়ালা/এমএজেড