খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার উত্তর মুরারীকাটি পালপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপে ধানের পর এবার পাট ব্যবহার করে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়। সোনালি আঁশ পাট দিয়ে তৈরি এই প্রতিমা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে এবং দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ কুমার পাল জানান, প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে চারজন শিল্পী টানা তিন মাস ধরে এই প্রতিমা নির্মাণ করেছেন। তিনি বলেন, “২০২৩ সালে আমাদের ধান দিয়ে তৈরি প্রতিমা সারা দেশে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা এবং অনুপ্রেরণা থেকে এবার পাট ব্যবহার করে প্রতিমাটি তৈরি করা হয়েছে।”
জানা গেছে, চলতি ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হবে। তবে তার আগেই প্রতিমাটি দেখতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ভিড় করছেন।
স্থানীয় তাপস পাল বলেন, “এমন প্রতিমা আগে কখনও দেখিনি। পাট দিয়ে প্রতিমা বানানো সত্যিই অসাধারণ এবং একটি অভিনব উদ্যোগ।”
কাজল কুমার পাল বলেন, “ধানের পর এবার পাট দিয়ে প্রতিমা তৈরি হওয়ায় আমরা গর্বিত। এটি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।”
দর্শনার্থী ও স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসকেই আরও দৃঢ় করছে না, বরং কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং শিল্পকলাকে নতুনভাবে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরছে।
ইতিমধ্যে প্রতিমাটিকে ঘিরে কলারোয়ায় একটি উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণে সাজসজ্জা, পূজা-অর্চনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবারের দুর্গোৎসব কলারোয়ার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ও ব্যতিক্রমী উৎসব হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য, এই বছর সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৫৮৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা পৌরসভায় ১৮টিসহ সদর উপজেলায় ১০৬টি, তালা উপজেলায় ১৯৫টি, কলারোয়ায় ৪৪টি, শ্যামনগর উপজেলায় ৬৯টি, আশাশুনি উপজেলায় ১০৩টি, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৪৯টি এবং দেবহাটা উপজেলায় ২১টি মণ্ডপ রয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, জেলায় মোট ৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ মণ্ডপ রয়েছে, যার মধ্যে শ্যামনগরে ২০টি, কালিগঞ্জে ২টি, দেবহাটায় ৪টি, আশাশুনিতে ২৩টি এবং কলারোয়ায় ৬টি।
খবরওয়ালা/টিএসএন