খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
লে. কমান্ডার (অব) মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একজন সাহসী অফিসার, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর সন্তান।
১৯৩৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পিরোজপুর জেলার ডুমুরিতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ব্রজমোহন কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৫০ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যোগ দেন। একই বছরে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নেন এবং প্রশিক্ষণ শেষে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।
১৯৬৭ সালের ৯ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য’ নামে দায়ের হওয়া বিখ্যাত আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রথম আসামি এবং লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন দ্বিতীয় আসামি। প্রবল গণআন্দোলনের মুখে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এ মামলা প্রত্যাহার হলে তিনি মুক্তি পান।
১৯৭০ সালের ১৮ মার্চ চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি প্রত্যক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন। স্বাধীনতার ঘোষণার প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ সকালে কর্নেল তাজের নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানি সেনা তাঁর ঢাকার বাড়িতে হামলা চালায় এবং সেখানেই তাঁকে গুলি করে হত্যা করে।
দেশপ্রেমের উজ্জ্বল প্রতীক এই শহীদ অফিসারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১৯৭৬ সালের ১৬ জানুয়ারি রাঙামাটিতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ ঘাঁটির নামকরণ করা হয় বিএনএস শহীদ মোয়াজ্জেম।
ব্যক্তিগত জীবনে লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা রাজের বড় ভাই। বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে তাঁর আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
খবরওয়ালা/এমএজেড