খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বগুড়ার মধুবন সিনেপ্লেক্স লোকসানের কারণে শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) থেকে বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ।
লোকসানের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সিনেপ্লেক্সের মালিক রোকনুজ্জামান ইউনুস গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির এই উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্পীর সংকট রয়েছে, দর্শকরা কেবল নায়ক শাকিব খান অভিনীত ছবি দেখতে আগ্রহী। এছাড়াও, আধুনিক টেকনিশিয়ানের অভাব রয়েছে। যারা এখন মোবাইল ও ল্যাপটপে ছবি দেখছেন, তারা নতুনত্ব পছন্দ করেন, কিন্তু বাংলাদেশে নির্মিত ছবিতে সেই আকর্ষণ নেই।’
যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবিগুলোতে দর্শকদের চাহিদা মেটানোর মতো উপাদান থাকে উল্লেখ করে রোকনুজ্জামান বলেন, ‘যৌথ প্রযোজনায় ছবি বানাতে গেলে ভারতীয় শিল্পীদের অনেক বেশি টাকা দিতে হয়। এ কারণে অনেকেই এই কাজে আগ্রহী নন। বাংলা চলচ্চিত্রের এই অবস্থা দেখে এখানকার শিল্পীরাও কলকাতার দিকে ঝুঁকছেন। এ অবস্থায় সিনেমা হল বন্ধ হওয়াই স্বাভাবিক।’
তার দাবি, তারা সংস্কৃতি উপদেষ্টা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েও দেখা করতে পারেননি। কিছুদিন আগে সচিবের সঙ্গে তাদের দেখা হয়েছে।
মধুবন সিনেপ্লেক্সের কর্ণধার বলেন, ‘এক বছর হলো তারা বিষয়টি দেখছেন। আসলে তারা চলচ্চিত্র শিল্পকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, তা বোঝা যাচ্ছে না।’
মালিকপক্ষ জানায়, ১৯৭৪ সালে ‘রাজ মহল’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে হলটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর বেশ কয়েক বছর অশ্লীল ছবির কারণে এটি বন্ধ ছিল। ২০১২ সালে ৪ কোটি টাকা খরচ করে ডিজিটাল ভার্সন যুক্ত করে ‘মধুবন সিনেপ্লেক্স’ নামে এর কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। সারা দেশের মতো বগুড়াতেও একের পর এক হল বন্ধ হয়ে গেলেও মধুবন পুরোদমে চলছিল। কিন্তু বিদেশি ছবি আমদানির অনুমতি না পাওয়ায় এবং নিম্নমানের দেশি ছবির জন্য দর্শক না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে হলটি বন্ধ করে দিচ্ছেন।
মধুবনে ২২ জন কর্মচারী কাজ করেন, যাদের মাসিক বেতন ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। বিদ্যুৎ বিল বাবদ দেড় লক্ষ টাকা খরচ করেও দেশি ছবিতে প্রতি মাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে বাংলাদেশে সিনেমা হল ছিল ১ হাজার ৪০০টি। ক্রমাগত বন্ধ হতে হতে এখন চালু হলের সংখ্যা মাত্র ৩০টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন