খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১২ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দুর্বল ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়ে বাঁচানো হলেও খেলাপি ঋণের চাপের কারণে দেশের ৯টি নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের পথে। ব্যাংকের মতোই অবসায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানে জমা থাকা আমানত ফেরত দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো তহবিল গঠন করে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখা যায় কি-না, সে বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
গাজীপুরের বাসিন্দা সৈকত দাসের উদাহরণ এই সমস্যার মুখ্য চিত্র। তিনি প্রায় ৭ লাখ টাকা আভিবা ফাইন্যান্সে বিনিয়োগ করেছেন, যা তার টিউশন ফি, বাবার রেখে যাওয়া অর্থ এবং পরিবারের অন্যান্য সঞ্চয় থেকে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার পর তিনি নিজের টাকা তুলতে গেলে বারবার খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে। সৈকত জানিয়েছেন, টাকা ফেরত না পেলে তার কাছে আর কোনো বিকল্প থাকবে না।
এ ছাড়াও বহু মানুষই এমন বিপদে পড়েছেন, যারা খেলাপি ঋণ, জালিয়াতি ও দুর্নীতির কারণে বন্ধ হতে যাওয়া ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত রেখেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু সাধারণ আমানতকারীদের টাকা ফিরছে না।
এ অবস্থায় দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ব্যাংক বহির্ভূত খাতে ৩৫টি প্রতিষ্ঠানে মোট খেলাপি ঋণ ছিল ২৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, যার ৫২ শতাংশই এই ৯টি প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান এতটাই দুর্বল যে ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই, তাই অবসায়নের আওতায় আনা হয়েছে। অবসায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, অবসায়নে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রশ্নই নেই, কারণ প্রতিষ্ঠানই আর থাকবে না।
প্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে খেলাপি ঋণের fate কী হবে এবং আমানতকারীদের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে, সে বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে। ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দিয়ে শক্তিশালী করার অভিজ্ঞতা থেকে অর্থনীতিবিদরা পরামর্শ দিয়েছেন, শর্তসাপেক্ষে এনবিএফআইগুলোকে পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষবারের মতো মূলধন সহায়তা দেওয়া যেতে পারে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় থাকা ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৪৯ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ৩ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা খেলাপি। গত বছর এসব প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকার মুনাফা করেছে।
এই পরিস্থিতি দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায়浮োর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।