খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় পাকিস্তান বিমানবাহিনীর বিমান হামলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানগুলো নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর আস্তানা লক্ষ্য করে খাইবার জেলার তিরাহ উপত্যকার মাতরে দারা গ্রামে আটটি এলএস-৬ বোমা নিক্ষেপ করে। এতে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয় এবং নিহত সবাই বেসামরিক নাগরিক।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন। তবে তাদের অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, শিশুদের মরদেহসহ আরও অনেক লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মরদেহ থাকার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়ায় অতীতেও বহু সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে এবং সেখানে বহু বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। চলতি বছরের জুনে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছিল, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বারবার ড্রোন হামলা পাকিস্তানে বেসামরিক জীবনকে ভয়াবহভাবে অবজ্ঞা করার ইঙ্গিত দেয়।
ইজাবেল লাসি, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়ার ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর, বলেন, ‘খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে।’
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের তথ্যের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সেখানে ৬০৫টি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটেছে। এতে অন্তত ১৩৮ জন বেসামরিক এবং ৭৯ জন পাকিস্তানি পুলিশ নিহত হয়েছে। শুধু আগস্ট মাসেই ১২৯টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ছয়জন পাকিস্তানি সেনা ও আধা সামরিক ফেডারেল কনস্টাবুলারি সদস্যের নিহত হওয়ার খবরও রয়েছে।
এই ঘটনায় পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি) আজ সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়ার তিরাহ এলাকায় ‘আকাশপথে বোমা হামলায়’ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। এইচআরসিপি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
এদিকে, খাইবার থেকে নির্বাচিত ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল খান আফ্রিদি একটি ভিডিও বার্তায় এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি ভিডিওটি গণমাধ্যমের কাছে পাঠান এবং বলেন, তিরাহ উপত্যকায় যুদ্ধবিমানের বোমার আঘাতে বয়স্ক নারী ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি জনগণকে ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘খাইবারে এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এখানকার বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা এখন একটি রুটিনে পরিণত হয়েছে।’
একই ধরনের ঘটনা আগে গত মে মাসে ঘটেছে, খাইবার পাখতুনখাওয়ার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান জেলার ওয়ানা তহসিলে সন্দেহজনক কোয়াডকপ্টার হামলায় ৭ শিশুসহ ২২ জন আহত হয়েছিল। এর এক সপ্তাহ আগে, উত্তর ওয়াজিরিস্তান জেলার মীর আলি তহসিলে কোয়াডকপ্টার হামলায় ৪ শিশু নিহত এবং আরও ৫ জন আহত হন। পরে সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের মিথ্যাভাবে জড়ানো হয়েছে। হামলাটি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল।
খবরওয়ালা/শরিফ