খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
আগামী বছর ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই মেগা ইভেন্ট ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ক্রিকেটবিশ্বে শুরু হয়েছে আলোচনা—কোন খেলোয়াড়রা থাকবে ভারতের চূড়ান্ত স্কোয়াডে? গত কয়েক মাসে ভারত যেভাবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দাপট দেখিয়েছে, তাতে প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে। এমন গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের দল নির্বাচন নিয়ে এবার পাওয়া গেল গুরুত্বপূর্ণ আভাস।
বিসিসিআইয়ের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতের আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য যে দল ঘোষণা করা হবে, সেই স্কোয়াডই প্রায় নিশ্চিতভাবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করবে। অন্য কোনো পরিস্থিতি না ঘটলে বা বড় ধরনের ইনজুরি না হলে সেই দলেই খুব সামান্য পরিবর্তন আসবে।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়া সফরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ভারত। সিরিজটিতে সূর্যকুমার যাদব নেতৃত্ব দিয়ে নজর কাড়েন। তাঁর নেতৃত্বেই কি বিশ্বকাপে নামবে ভারত—এই প্রশ্নও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিসিসিআইয়ের আভাস বলছে, সূর্যকুমারের ওপরই আস্থা রাখতে চায় তারা।
ভারতীয় দলের সামনে এখন দুটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ৯ ডিসেম্বর থেকে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে সূর্যকুমাররা। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে ২১ জানুয়ারি শুরু হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। এই সিরিজের দলই হবে ভারতের মূল বিশ্বকাপ স্কোয়াড—এমনটাই দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিসিসিআইয়ের একজন কর্মকর্তা স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে আমাদের হাতে বাকি আছে মাত্র ১০টি টি-টোয়েন্টি। তাই দলের কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। যদি চোটের ঘটনা না ঘটে, নিউজিল্যান্ড সিরিজের স্কোয়াডকেই বিশ্বকাপে দেখা যাবে।”
এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভারতের নির্বাচকেরা বিশ্বকাপের দলকে স্থির করার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। হার্দিক পান্ডিয়াকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা, বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন, কিংবা যশস্বী জয়সওয়াল, রিঙ্কু সিং, শুবমান গিলের মতো তরুণদের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে প্রত্যাশা আরও বাড়ছে।
বিশ্বকাপ ভারতে না হলেও, ভারতীয় দলকে এবারও ফেভারিটের বাঁধাধরা তালিকায় রাখা হচ্ছে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর এবার ভারত চাইবে নতুন করে নিজেদের প্রমাণ করতে।
বিসিসিআইয়ের এই আভাসে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে: ভারতের কোচিং স্টাফ এবং নির্বাচকেরা স্থিতিশীলতাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। নতুন দল গড়ে তোলার চেয়ে পরিচিত মূল দলের ওপরই ভরসা রাখতে চাইছে ভারত।