খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পঞ্চগড়ে যোহরের নামাজের ফরজ শেষ হওয়ার পর সুন্নত নামাজ না পড়ার অভিযোগে এক মাদরাসা ছাত্রকে মুখে টুপি গুজে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষক লাঠি দিয়ে টুপি গলায় ঢুকানোর চেষ্টা করেছেন।
বুধবার (২৪শে সেপ্টেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের লিচুতলা এলাকার আত-তাক্বওয়া ওয়াস্সুন্নাহ হিফজ্ মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।
মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সাব্বির হোসেন নাসির (১২)। তার বাড়ি সদর উপজেলার পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া এলাকায়। স্বর্ণকার বেলাল হোসেন ও গৃহিনী ইয়াসমিন আক্তারের একমাত্র ছেলে নাসির মাদরাসাটির হেফজ বিভাগে পড়াশোনা করছে।
নাসির অভিযোগ করেন, ‘আমি সুন্নত নামাজ না পড়ায় আসাদ হুজুর আমাকে মারধর শুরু করে। আমি চিৎকার করলে আমার মুখে টুপি গুঁজে দিয়ে মারতে থাকে। কয়েকজন ছাত্র হাত ধরে থাকে, আর তিনি আমার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারতে থাকেন। যেভাবে আমার মুখে টুপি গুজে দিয়েছে, আরেকটু হলে আমি মরেই যেতাম।’
জানা গেছে, নাসির তিন মাস আগে মাদরাসার হেফজ বিভাগে ভর্তি হয়। ভর্তির কিছুদিন পরই একবার মারধরের শিকার হয়েছিল। তৎকালীন ঘটনায় বাড়িতে ফিরে গেলেও পরিবারের দৃঢ় ইচ্ছায় আবার মাদরাসায় পাঠানো হয়। তবে এবারের মারধর আগের ঘটনার তুলনায় গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২৫শে সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাসিরের বাবা বেলাল হোসেন পঞ্চগড় সদর থানায় অভিযোগ জমা দেন। তিনি আসাদুজ্জামানসহ তিন শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেন এবং অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনকে আসামী করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের কেউ এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল্লা হিল জামান বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের অভিযোগে তার বাবা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। মামলা প্রক্রিয়াধীন। অভিযোগের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ