খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
আধুনিক জীবনধারায় অনেকে নিজের জন্য আলাদা সময় বের করতে পারেন না। সারাদিন নানা কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। এই ব্যস্ততার প্রভাব খাদ্যাভ্যাসেও পড়ে। অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার কারণে ওজন বৃদ্ধিসহ শরীরে দেখা দেয় বিভিন্ন জটিলতা।
স্বাস্থ্য রক্ষা, সৌন্দর্য অটুট রাখা বা ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই ভিন্নধর্মী ডায়েটের প্রতি আকৃষ্ট হন। তার মধ্যে একটি হলো শুধুই ফল খাওয়া বা ফ্রুট-অনলি ডায়েট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই দাবি করা হয়, শুধু ফল খেলেই ত্বক উজ্জ্বল হয়, শরীর হালকা লাগে এবং দ্রুত ওজন কমে।
কিন্তু আসলেই কি তা সম্ভব? কেবল ফল খেয়ে কি টিকে থাকা যায়?
প্রথমে বোঝা জরুরি, ফল-ভিত্তিক ডায়েট আসলে কী। এ ধরনের ডায়েটে প্রায় পুরো খাবারই সীমিত থাকে ফলে। অনেকে সামান্য বাদাম বা বীজ খান, তবে মূল খাদ্য হয় ফল। ফলে রয়েছে পানি, আঁশ, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন, যা সুস্থ মানুষের জন্য উপকারী।
তবে কেবল ফলের ওপর নির্ভর করলে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পুষ্টির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
শুধু ফল খাওয়ার ফলে প্রথম যে সমস্যাটি দেখা দেয়, তা হলো প্রোটিনের অভাব। শরীরের পেশি পুনর্গঠন, কোষ ও টিস্যু গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য। ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং পেশি ক্ষয় হতে পারে। এ ছাড়া ভিটামিন বি-১২, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতির ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
এই উপাদানগুলো হাড়, রক্ত, মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আরেকটি বড় সমস্যা দেখা দেয় মেটাবলিজম ও রক্তের গ্লুকোজের ওঠানামায়। ফলে প্রাকৃতিক চিনি বা ফ্রুক্টোজ থাকে। কেবল ফল খাওয়া হলে এ চিনি দ্রুত বেড়ে যেতে পারে, এতে রক্তে শর্করার মাত্রা অনিয়মিত হয়।
যাদের ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন প্রতিরোধের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি প্রোটিন ও চর্বির ঘাটতি মেটাবলিজম ধীর করে দেয়, যার ফলে ওজন কমানোর লক্ষ্যও বাধাগ্রস্ত হয়।
এছাড়া পাচনতন্ত্রেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলে আঁশ থাকলেও যদি শুধু জুস বা অল্প কিছু ফলের ওপর নির্ভর করা হয়, তবে অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর ফলে পেট ফোলা, গ্যাস বা হজমের অসুবিধা দেখা দেয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও দীর্ঘদিন শুধু ফল খাওয়া সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। কঠোর ও সীমিত ডায়েট মানসিক চাপ বাড়ায়, খাওয়ার প্রতি অস্বাভাবিক আসক্তি তৈরি করে এবং সামাজিক যোগাযোগ কঠিন করে তোলে।
তবে সুষম খাদ্যতালিকায় ফল অন্তর্ভুক্ত করলে উপকারিতা অসংখ্য। এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও প্রদাহের ঝুঁকি হ্রাস করে। ফলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল শরীরকে সুরক্ষিত রাখে। আঁশ পেট ভরা অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন