অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সাম্প্রতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে তুরস্ককে পরাজিত করে বিশ্বকাপ আসরে দারুণ সূচনা করার মাধ্যমে। ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ডি গ্রুপের ম্যাচে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে তারা তুরস্ককে দুই শূন্য গোলে হারায়। ম্যাচে নেস্ট্রয় ইরানকুন্ডা প্রথমে দলকে এগিয়ে নেন এবং পরে কনর ম্যাকট্যাফে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এই জয়ের পর আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া দল বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছে এবং মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত পঞ্চাশ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। দলের শুরুটা অবশ্য ভালো ছিল না। ইনিংসের শুরুতেই ব্যাটিং ব্যর্থতায় সৌম্য সরকার মাত্র দুই রান করে আউট হন। এরপর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে তোলেন। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৫১ রানের জুটি গড়েন, যা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে।
তবে মিডল অর্ডারে অস্ট্রেলিয়ার স্পিন ও পেস আক্রমণে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শান্ত ও তামিম দ্রুত ফিরে গেলে লিটন দাস এবং তাওহীদ হৃদয় ইনিংসের হাল ধরেন। তাদের মধ্যে ৯৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ওঠে। লিটন দাস ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়লেও তাওহীদ হৃদয় দুর্দান্ত ব্যাটিং করে ৮৩ রান করেন। যদিও তিনি সেঞ্চুরি মিস করেন, তার ইনিংস বাংলাদেশের বড় স্কোর গড়তে মূল ভূমিকা রাখে।
শেষদিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং লিটনের পুনরায় ইনিংসের যোগদান দলের সংগ্রহকে ২৭৪ রানে পৌঁছে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য এখন ২৭৫ রান। ছয়বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি ইতোমধ্যে সিরিজে পিছিয়ে থাকায় এই ম্যাচ তাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজে দারুণভাবে এগিয়ে রয়েছে এবং এই ম্যাচ জিতলে তারা ঐতিহাসিক ধবলধোলাই সম্পন্ন করবে।
বাংলাদেশ ইনিংসের সারসংক্ষেপ
ব্যাটসম্যান
রান
বল
চার
তাওহীদ হৃদয়
৮৩
৮৮
৮
লিটন দাস
৫৮*
—
—
মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত
৫৬*
—
—
তানজিদ হাসান তামিম
১৯
—
—
নাজমুল হোসেন শান্ত
২৪
—
—
সৌম্য সরকার
২
—
—
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে জ্যাভিয়ের বার্টলেট এবং ম্যাট রেনশ দুটি করে উইকেট নেন, আর বেন ডাওয়ারশুইস একটি উইকেট শিকার করেন।
এখন ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করছে সিরিজের ভবিষ্যৎ। বাংলাদেশ কি ঐতিহাসিক ধবলধোলাই নিশ্চিত করবে, নাকি অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে ফিরবে—সেই উত্তেজনাই এখন মিরপুরে অপেক্ষা করছে।